ডেস্ক রিপোর্ট:
ইরান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁসের ঘটনায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ সদস্যকে ‘লাই ডিটেক্টর’ বা পলিগ্রাফ পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোপন সামরিক তথ্য সাংবাদিকদের কাছে কারা সরবরাহ করেছেন, তা শনাক্ত করতেই এ তদন্ত শুরু হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য কীভাবে সংবাদমাধ্যমে পৌঁছেছে, সেদিকে তদন্তকারীদের নজর ছিল।
গত মাসে এসব পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা অস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, অভ্যন্তরীণ তদন্তের বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করবেন না। তবে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের বিষয়টি প্রতিরক্ষা বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত করে।
সামরিক ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় পরিসরে শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের পলিগ্রাফ পরীক্ষার ঘটনা আধুনিক মার্কিন সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। তদন্তের উদ্দেশ্য শুধু তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্ত করা নয়, ভবিষ্যতে গোপন তথ্য প্রকাশ ঠেকাতেও কঠোর বার্তা দেওয়া।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রশাসনের গোপন তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন।
সূত্রঃ আল-জাজিরা।
Leave a Reply