আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, আলোচনায় অচলাবস্থা থাকলেও ইরান এখন ‘শক্তিশালী অবস্থানে’ রয়েছে।
শুক্রবার চিকিৎসকদের এক সমাবেশে পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শক্তি ও মর্যাদার অবস্থান থেকে যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ইরানের জন্য ভালো হবে। তাঁর দাবি, ইরানের অবস্থানকে বিশ্ব স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থানকে ঘিরে দেশটির অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কর্তৃত্বের অধীন। এরই মধ্যে পার্লামেন্টের কট্টরপন্থি সদস্যদের সমালোচনার মুখে ওয়াশিংটনের সঙ্গে জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন পেজেশকিয়ান।
সমালোচকদের অভিযোগ, ওই সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে তাঁর সরকার। তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পেজেশকিয়ান বলেছেন, চুক্তির কোনো ধারাকেই আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখানো সম্ভব নয় এবং এতে উভয় পক্ষের জন্যই প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়।
পরবর্তী সময়ে একাধিকবার যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হলেও স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ ৬০ দিনের সমঝোতার পর স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তা পরে থমকে যায়।
এদিকে নতুন করে মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের হুমকির জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, নতুন কোনো হামলা বা হুমকি এলে স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, শত্রুর নতুন হুমকির বিরুদ্ধে ইরানের জবাব হবে ব্যাপক ও কঠোর।
অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগও চলছে। শুক্রবার ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। সেখানে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরু এবং সমঝোতার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিষয়ে কথা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে।
গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালির একটি অংশ তেহরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আলোচনায় বসার আগ্রহ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ইরান চুক্তি করতে চাইলেও এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত ‘সঠিক চুক্তি’ করার জন্য প্রস্তুত নয়।
এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। ট্রাম্পও সতর্ক করেছেন, কোনো দেশ ইরানকে সহায়তা করলে তাদেরও অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
ফলে একদিকে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধের অবসানের আহ্বান, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমার বদলে নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply