বিশেষ প্রতিবেদন:
ক্রিকেট মাঠে খেলোয়াড়দের সাফল্যই সাধারণত আলোচনায় আসে। কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে নীরবে কাজ করে যাওয়া মানুষগুলোর গল্প থেকে যায় আড়ালেই। তেমনই একজন সুনান রুবাইয়াত ম্যাক। কোচ, ট্রেইনার ও মেন্টর হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন অসংখ্য ক্রিকেটারের উন্নয়নে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ এবং অনফিল্ডের ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুনান রুবাইয়াত ম্যাক। প্রফেশনাল ক্রিকেটে তাঁর অবদানের পাশাপাশি অ্যামেচার ক্রিকেটেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ও প্রভাব।
বাংলাদেশ LMS দলের প্রধান কোচ হিসেবেও তাঁর হাত ধরে এসেছে বিশ্বকাপের সাফল্য। তবে একটি দল বা নির্দিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। বরং যে কোনো ক্রিকেটার ফিটনেস, স্কিল ডেভেলপমেন্ট কিংবা পারফরম্যান্স উন্নয়ন নিয়ে তাঁর কাছে গেলে আন্তরিকভাবে সময় দিয়েছেন।
একজন খেলোয়াড় কোথায় উন্নতি করতে পারেন, কীভাবে নিজের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা আনা যায় কিংবা মাঠে নিজের সেরাটা কীভাবে বের করে আনা যায়, এসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত কাজ করেন ম্যাক।
তাঁর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ না করা। দলের পরিচয় কিংবা জার্সির রং নয়, তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ শেখার আগ্রহ এবং উন্নতি করার মানসিকতা। তাই বিভিন্ন দলের ক্রিকেটারদেরই তাঁর পরামর্শ নিতে দেখা যায়।
শুধু কোচ বা ট্রেইনার হিসেবে নয়, একজন মেন্টর হিসেবেও খেলোয়াড়দের কাছে আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন সুনান রুবাইয়াত ম্যাক। ক্রিকেটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নিয়েও তাঁর সঙ্গে কথা বললে খেলোয়াড়রা পান বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ ও নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।
মাঠে তিনি উপস্থিত হলে খেলোয়াড়দের মধ্যে যে আগ্রহ ও সম্মান দেখা যায়, সেটিও তাঁর দীর্ঘদিনের কাজেরই প্রতিফলন। এই সম্মান কোনো পদ বা পরিচয়ের কারণে পাওয়া নয়; বছরের পর বছর আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও খেলোয়াড়দের পাশে থাকার মধ্য দিয়ে অর্জন করেছেন তিনি।
ক্রিকেটে অনেক সাফল্যের গল্পে খেলোয়াড়ের নাম সামনে আসে, কিন্তু সেই সাফল্যের নেপথ্যে থাকা মানুষগুলোর কথা অনেক সময়ই অজানা থেকে যায়। সুনান রুবাইয়াত ম্যাক তেমনই একজন। অসংখ্য ক্রিকেটারের ফিটনেস, মানসিক প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্স উন্নয়নে তাঁর অবদান হয়তো সবসময় সংবাদ শিরোনামে আসে না, তবে তাঁর কাছ থেকে শেখা খেলোয়াড়দের কাছে সেই অবদান অমূল্য।
অ্যামেচার ক্রিকেট থেকে প্রফেশনাল পর্যায়—দুই ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়দের পাশে থেকে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটির গল্প তাই শুধুই একজন কোচের গল্প নয়। এটি একজন মেন্টরের গল্প, যিনি অন্যদের সাফল্যের পেছনে থেকে নিজেই হয়ে উঠেছেন অসংখ্য ক্রিকেটারের নীরব নায়ক।
Leave a Reply