1. tanvirinternational2727@gmail.com : NewsDesk :
  2. hrbangladeshbulletin@gmail.com : News Room : News Room
  3. 25.sanowar@gmail.com : Sanowar Hossain : Sanowar Hossain
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন

জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার ৬০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

  • সময় : বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৮৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ৬ সেপ্টেম্বর বুধবার জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার ৬০তম (জাদৃস) প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

মূল স্রোতের বাইরে নয় এমন স্লোগানকে সামনে রেখে দীর্ঘ ৫৯ বছর পাড়ি দিয়েছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করা এই সামাজিক সংগঠনটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে অতীতের করা কাজের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এছাড়াও দুই পর্বে আলোচনা, কেককাটা, আর্থিক অনুদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

নিজেদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া এই আয়োজনে অংশ নিলেন সারা দেশের প্রায় ৬ শতাধিক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

প্রথম পর্বে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বেলা ১১টায় আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন সংস্থার সদস্যরা। পরে কেককাটার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা।

প্রথম পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের উপ-পরিচালক ভবেন্দ্র নাথ বাড়ৈ, লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাফর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর বিন আবদাল আজিজ (তামিম) প্রমুখ।

বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

প্রথম পর্ব শেষে মধ্যাহ্নভোজের পর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

দুই পর্বেই সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান নুরুল আলম সিদ্দিক। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে সঞ্চালনায় ছিলেন মহাসচিব আইয়ুব আলী হাওলাদার।

এ সময় পৃথক পর্বে সবার অংশ গ্রহণে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটা হয়। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছিল জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার প্রধান কার্যালয়। পুরো কার্যালয় জুড়ে জমকালো আলোকসজ্জা করা হয়।

জমকালো এই আয়োজনে সারা দেশের ১০০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ৩ হাজার করে মোট ৩ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া ২০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে মাসিক ১ হাজার টাকা করে দুই মাসের জন্য ৪০ হাজার টাকা বয়স্কভাতা প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে ৫০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মাঝে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি ৮ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে পুনর্বাসনের জন্য আটটি সেলাই মেশিন, ১২ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে গৃহনির্মাণের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নগদ অর্থ, ২৪ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে ৩ হাজার টাকা করে ৭২ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা, ১৪ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ৫ হাজার টাকা করে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

আর চারজন মৃতব্যক্তির দাফন বাবদ ৩ হাজার টাকা করে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ১৮০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সদস্যকে ৫ হাজার টাকা করে ৯ লাখ টাকা অর্থ প্রদান করা হয়। সবার হাতে জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থার অনুদান তুলে দেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও সংস্থার মহাসচিব আইয়ুব আলী হাওলাদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ সকল প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার সুবিধা ইতিমধ্যে অনেকেই গ্রহণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ভাষা বুঝতেন। যে কারণে তিনিই প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। তাদের কল্যাণে ফাউন্ডেশন গঠন করার ফলে এখন পর্যন্ত কাজ হচ্ছে। আগামীতেও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য হাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবেন। এসব বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অতীতের মত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামাত বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে আসছে। তবে তাদের সফল হতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার সরকারকে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আনার জন্য সবার কাছে ভোট প্রার্থনা করেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

পরে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুনিয়ার আলো না দেখা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকা এই মানুষগুলো সংস্কৃতির আলোর দ্যুতি ছড়ালেন চোখভর্তি আলোয় ভরা মানুষের সামনে। সুরে সুরে মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে নিজেদের ঝলমলে প্রতিভার ছাপ রাখলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা। আর তাদের সেই সুরে স্নাত হয়ে মোহনীয়তার তরঙ্গে হারিয়ে গেলেন দর্শক-শ্রোতারা।

বা বু ম/ সোহেল রানা

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের অন্যান্য খবর
©বাংলাদেশবুলেটিন২৪