ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ স্টাফ রিপোর্টারঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ভোটে প্রভাব বিস্তার বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র কোনোভাবেই সহ্য করবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দলীয় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকল নেতা-কর্মীকে দ্ব্যর্থহীনভাবে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের নির্দেশ দিতে হবে। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত না হয়।
ড. ইউনূস বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে ত্রুটিপূর্ণ ও সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে শক্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলে তার কঠিন জবাবদিহি করতে হয়।
তিনি জানান, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রথমবারের মতো সারাদেশে ব্যাপকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বডি ক্যামেরা, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কারও দয়া নয়, সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার। নিরাপত্তা ও নজরদারির এসব ব্যবস্থার লক্ষ্য একটাই—ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন।
ড. ইউনূস আরও জানান, নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এবার ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবং স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি—যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সর্বাধিক। এটি শুধু একটি নিয়মিত নির্বাচন নয়; একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
নির্বাচনের ফল যাই হোক, সকল প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিজয় ও পরাজয়—দুটোই গণতন্ত্রের অংশ। নির্বাচনের পর সবাইকে নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।