শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
“মধুমতির ভাঙনে আতঙ্ক, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন” মহাখালীতে রঙের দোকানে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ বজ্রপাতে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাসার গ্যাস লাইনে আগুন টুঙ্গিপাড়ায় শিক্ষককে ঘিরে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এমবাপ্পে-ভালভার্দের গোলে ইন্টারকে হারিয়ে রিয়ালের শুভসূচনা রূপপুর প্রকল্পে আগুন, দীর্ঘ সময়েও ফেরেনি বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট ইতালিতে হামলার শিকার বাঁধন, ‘শেষ দেখে ছাড়ব’ ৩০ বছরেও অমলিন ‘স্বপ্নের নায়ক’ সালমান শাহ মাদক মামলায় মিসরের টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড
১৭ শিক্ষক, ১৯ পরীক্ষার্থী—পাস শূন্য!

১৭ শিক্ষক, ১৯ পরীক্ষার্থী—পাস শূন্য!

পাবনা প্রতিনিধি : ১০ বছর ধরে ফলাফল বিপর্যয়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানে গাফিলতির অভিযোগ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুরা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে শিক্ষক ১৭ জন। অথচ চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে মাদ্রাসাটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

এমন ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা, পাঠদানে গাফিলতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ নজরদারির অভাবেই বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল খারাপ হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু এ বছরই নয়, গত প্রায় এক দশক ধরে মাদ্রাসাটির দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থীও নেই।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছর ১৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাগুরা দাখিল মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে অবকাঠামোগত সংকট। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। এর পাশাপাশি মাদ্রাসাটি প্রত্যন্ত চলনবিল এলাকায় অবস্থিত এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮-৯ কিলোমিটার দূরে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক ভাঙ্গুড়া এলাকায় বসবাস করেন। ফলে তারা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন না। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শিক্ষকদের এমন অনিয়মের কারণে সচেতন অভিভাবকরাও সন্তানদের এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানান তারা।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “মাদ্রাসার শিক্ষকরা ঠিকমতো পড়াশোনা করান না। নিয়মিতও আসেন না। শুধু বেতন তোলেন। ফলে এলাকার সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এ মাদ্রাসায় দিতে চান না। গত ১০ বছর ধরেই এখানে কাম্য শিক্ষার্থী নেই এবং ফলাফলও খারাপ।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে মাগুরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার জাকির হোসাইন বলেন, “গ্রামের ছেলেপেলে ঠিকমতো পড়ে না। তাই ফলাফল খারাপ হয়েছে। মাফ চাই। নিউজ কইরেন না।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, “ওই মাদ্রাসায় ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।”

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৭ জন শিক্ষক থাকার পরও ১৯ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস না করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এবং দীর্ঘদিনের ফলাফল নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com