শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
সামাজিক সুরক্ষায় আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী আইফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে অ্যাপল লং মার্চ স্থগিতে জামায়াতকে শেহবাজের অনুরোধ আশুলিয়ায় কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৭ রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাভেদ নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের আবেশ হোটেলের পেছনের ব্রিজসংলগ্ন লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে লেকের কিনারায় নিয়ে আসা হয়। মৃত ব্যক্তির পকেটে থাকা পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে এসে তার স্ত্রী মরদেহ শনাক্ত করেন। জাভেদের বাড়ি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ন্যাম ভবনে এমপির স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে উড়ছে বার্সা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের খলিলুর রহমান বাসে আগুন-ককটেল বিস্ফোরণে উত্তপ্ত রাজধানী
১৭ শিক্ষক, ১৯ পরীক্ষার্থী—পাস শূন্য!

১৭ শিক্ষক, ১৯ পরীক্ষার্থী—পাস শূন্য!

পাবনা প্রতিনিধি : ১০ বছর ধরে ফলাফল বিপর্যয়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানে গাফিলতির অভিযোগ

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুরা দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে শিক্ষক ১৭ জন। অথচ চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে মাদ্রাসাটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

এমন ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা, পাঠদানে গাফিলতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ নজরদারির অভাবেই বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল খারাপ হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু এ বছরই নয়, গত প্রায় এক দশক ধরে মাদ্রাসাটির দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থীও নেই।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। চলতি বছর ১৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাগুরা দাখিল মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে অবকাঠামোগত সংকট। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। এর পাশাপাশি মাদ্রাসাটি প্রত্যন্ত চলনবিল এলাকায় অবস্থিত এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮-৯ কিলোমিটার দূরে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক ভাঙ্গুড়া এলাকায় বসবাস করেন। ফলে তারা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন না। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শিক্ষকদের এমন অনিয়মের কারণে সচেতন অভিভাবকরাও সন্তানদের এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানান তারা।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “মাদ্রাসার শিক্ষকরা ঠিকমতো পড়াশোনা করান না। নিয়মিতও আসেন না। শুধু বেতন তোলেন। ফলে এলাকার সচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এ মাদ্রাসায় দিতে চান না। গত ১০ বছর ধরেই এখানে কাম্য শিক্ষার্থী নেই এবং ফলাফলও খারাপ।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে মাগুরা দাখিল মাদ্রাসার সুপার জাকির হোসাইন বলেন, “গ্রামের ছেলেপেলে ঠিকমতো পড়ে না। তাই ফলাফল খারাপ হয়েছে। মাফ চাই। নিউজ কইরেন না।”

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, “ওই মাদ্রাসায় ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।”

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৭ জন শিক্ষক থাকার পরও ১৯ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস না করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এবং দীর্ঘদিনের ফলাফল নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ছবি: সংগৃহীত

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাভেদ নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের আবেশ হোটেলের পেছনের ব্রিজসংলগ্ন লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে লেকের কিনারায় নিয়ে আসা হয়। মৃত ব্যক্তির পকেটে থাকা পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে এসে তার স্ত্রী মরদেহ শনাক্ত করেন। জাভেদের বাড়ি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com