বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
লং মার্চ স্থগিতে জামায়াতকে শেহবাজের অনুরোধ আশুলিয়ায় কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৭ রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাভেদ নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের আবেশ হোটেলের পেছনের ব্রিজসংলগ্ন লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে লেকের কিনারায় নিয়ে আসা হয়। মৃত ব্যক্তির পকেটে থাকা পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে এসে তার স্ত্রী মরদেহ শনাক্ত করেন। জাভেদের বাড়ি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ন্যাম ভবনে এমপির স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে উড়ছে বার্সা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের খলিলুর রহমান বাসে আগুন-ককটেল বিস্ফোরণে উত্তপ্ত রাজধানী রাজধানীর চার এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে পাভেল বাদ? মেট্রোরেলের ৩ প্রকল্প ও ইলেকট্রিক ট্রেনসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন
কলম মেম্বারকে আলফাডাঙ্গা থানার নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো

কলম মেম্বারকে আলফাডাঙ্গা থানার নাশকতার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো

স্টাফ রিপোর্টার –

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার একটি মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ভাগ্নে ইব্রাহিম শেখ ওরফে কলম মেম্বারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গত ৪ মে বিস্ফোরক ও নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

পুলিশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুর ৯নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাওন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।

২০ এপ্রিল কলম মেম্বারকে ফরিদপুর শহরের আদালতপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একইদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ইব্রাহিম শেখ ওরফে কলম মেম্বারের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ঢাকার খিলগাঁওয়ে হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৩ আগস্ট আলফাডাঙ্গা থানায় বিস্ফোরক ও নাশকতার মামলা হয়। সেই মামলার আসামি ইব্রাহিম শেখ ওরফে কলম মেম্বার। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ১৩ আগস্ট আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন চৌরাস্তায় দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মিছিল করে। মিছিলে একপর্যায়ে আসামিরা ঘটনাস্থলের আশপাশের রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ভাঙচুর করে। আসামীরা মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে শতশত ককটেল ও হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহলরত গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত আসামিরা পালিয়ে যায়।

এদিকে ফরিদপুর জেলা পুলিশের নথি বলছে— সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ক্যাশিয়ার ও ভাগ্নে ইব্রাহিম শেখ ওরফে কলম মেম্বার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কলম মেম্বার বিরোধী মত দমনে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলো। তার মাধ্যমে স্থানীয় বিএনপি-জায়ামাতের নেতা-কর্মীরা বারবার নির্যাতিত হয়েছে।

জানা গেছে, কলম মেম্বারের বাড়ি আলফাডাঙ্গার কামারগ্রামে। সে ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ভাগ্নে ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য। মামা আছাদুজ্জামান মিয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে হন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের নেতা। এই কলম মেম্বার আছাদুজ্জামান মিয়ার ভাগ্নে পরিচয়ে ও মামার প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় জমি দখল, সালিশের নামে টাকা আদায়, চাঁদাবাজিসহ পুলিশে চাকরি, বদলি বাণিজ্য করে টাকা কামিয়েছেন দু’হাতে। এমনকি আছাদুজ্জামান মিয়া তাকে ভোট কারচুপির মাধ্যমে স্থানীয় আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে কলম মেম্বারকে বরখাস্ত হতে হয়েছিল।

সূত্র বলছে, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ভাগ্নে হওয়ার সুবাদে অনেক সম্পদ ও টাকার মালিক হয়েছেন এই কলম মেম্বার। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া মৌজায় ইব্রাহিম শেখ কলমের নামে ১৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। যার বাজারমূল্য কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা। তবে এই জমির প্রকৃত মালিক সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এছাড়া ‘সবুজ ছায়া’ নামে ইব্রাহীম শেখ একটি ঋণদান সংস্থার মালিক। যেখানে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আছে তার। এ প্রতিষ্ঠান থেকে চড়া সুদে ঋণ দেওয়া হয় মানুষকে। সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার অবৈধ অর্থেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। আর ১৮ ফেব্রুয়ারি আছাদুজ্জামান মিয়ার শ্যালক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হারিচুর রহমান সোহানকে গ্রেপ্তার সিটিটিসি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে জাভেদ নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর রোডের আবেশ হোটেলের পেছনের ব্রিজসংলগ্ন লেক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ধানমন্ডি থানা পুলিশ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানিতে ভাসতে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করে লেকের কিনারায় নিয়ে আসা হয়। মৃত ব্যক্তির পকেটে থাকা পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে এসে তার স্ত্রী মরদেহ শনাক্ত করেন। জাভেদের বাড়ি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com