বিবিসি
দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের বয়স গণনায় নতুন একটি আইন জারি করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, বয়স গণনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করা হবে। ফলে দেশটির বাসিন্দাদের বয়স এক থেকে দুই বছর কমে যাবে। আজ বুধবার থেকে আইনটি কার্যকর হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বয়স গণনা করতে দুটি নিয়ম অনুসরণ করা হতো। এর মধ্যে একটি নিয়মে মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থাতেই শিশুদের বয়স গণনা শুরু হতো। ফলে জন্মের সময় শিশুর বয়স হতো ১ বছর। অপর নিয়মে একজনের প্রকৃত জন্মদিনের পরিবর্তে প্রতিবছর ১ জানুয়ারি তার জন্মদিন ধরা হতো।
এই নিয়ম দুটি দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েক শ বছর ধরে প্রচলিত। ফলে নানা সমস্যা দেখা দিত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মায়ের গর্ভ থেকে বয়স গণনার ফলে কোনো শিশু ৩১ ডিসেম্বর জন্ম নিলে সেদিন তার বয়স ১ বছর হবে। আর পরদিন ১ জানুয়ারি হওয়ায় সেদিন তার বয়স ২ বছর হবে। অথচ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি শিশুটির বয়স হয় মাত্র ২ দিন।
বুধবার থেকে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর শুধু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন বয়স গণনার নিয়মটি পুরোপুরি বাতিল হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি জন্মদিন ধরার নিয়ম ব্যবহার করা হবে। যেমন দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯ বছর বয়স হলে সিগারেট ও অ্যালকোহল কেনার অনুমতি পাওয়া যায়। তবে বছরের মধ্যে কারও ১৯ বছর পূর্ণ হলেই তিনি সেদিন থেকে এগুলো কিনতে পারবেন না। তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে পরের বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
গত বছর নির্বাচনের আগেই বয়স গণনা আইন পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে আসছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। তিনি বলেছিলেন, ঐতিহ্যবাহী নিয়ম দুটি ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক খরচ’ বাড়াচ্ছে। পরে গত ডিসেম্বরে একটি নিয়ম বাতিল করতে একমত হন দেশটির আইনপ্রণেতারা।
এ নিয়ে গত বছরের জানুয়ারিতে একটি জরিপ চালিয়েছিল হ্যানকক রিসার্চ নামের স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান। তাতে দেখা যায়, প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনই বয়স গণনার নিয়ম পরিবর্তনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। যেমন হিউন জে-অং বিয়ুন। তিনি বলেন, ‘আমার এই আইন খুবই ভালো লেগেছে। কারণ, আমার বয়স দুই বছর কমে গেছে। আমার জন্মদিন ডিসেম্বরে। ফলে সব সময় আমার মনে হতো, যত না আমার বয়স, তার চেয়ে কোরিয়ার বয়স গণনাপদ্ধতি আমাকে সামাজিকভাবে বেশি বয়স্ক করে তুলেছিল। আর বিদেশে গেলেও আমাকে এটি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে না।’
Leave a Reply