মাধবপুরে ভূমিদস্যু জিয়ার হাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার কে বাঁচানোর দাবিতে মানববন্ধন
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ভূমিদস্যু আরিফুল ইসলাম জিয়ার হাত থেকে নিজেদের সহায়-সম্পত্তি রক্ষা করতে রাস্তায় নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সহ এলাকাবাসী।
রবিবার (২৯ মে) সকাল ১১ টায় উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের হরিতলা এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি করেন তারা।
কর্মসূচিতে ভূমিদস্যু জিয়ার ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, গড়ে উঠা কুলটেক সলিউশন লিমিটেডের কপারটেক নামক প্রতিষ্ঠানের ভূমির দালালি করেন আরিফুল ইসলাম জিয়া। গত কয়েক বছর ধরে জমি কেনার নামে প্রতারণা করে আসছেন জিয়া। জাল দলিল সৃষ্টি করে হাতিয়ে নেয়া হয় জমি। অনেককেই চেক দিলেও পায়নি কেউ টাকা। কেউ এর প্রতিবাদ করলেই স্থানীয় লোকজনের নামে মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, চাঁদাবজি, ডাকাতীসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়। আবার তিনিই সেই মিথ্যা মামলা তুলে নিতে দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা দাবি করছে।
এসব কারণে লোকজন তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। কেউ কিছু বললেই মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেয়। দাবিয়ে রাখা হয় তার লোকজন দিয়ে। পরে রাতের আধারে ওইসব জমি দখলে নেয় প্রতারক জিয়া।বাবুল নামে এক ভূক্তভোগীর কাছ থেকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ জমি কিনে নিলেও পায়নি কানাকড়ি।
আদালতের দারে দারে ঘুরছর বাবুল মিয়া।কুদরত আলী নামের অপর এক ভুক্তভোগীর দাবি, তার বসতবাড়ি ক্রয়ের নামে ভুয়া দলিল বানিয়ে দখল নেয়ার চেষ্টা করে জিয়া ও তার বাহীনি। এরকম একই অভিযোগ তুলছেন বাকিরাও।হয়রানির শিকার ওই গ্রামের সাহাবুদ্দিন ও রুস্তুম আলী বলেন, অহেতুক ভূমিদস্যু জিয়া মিথ্যা মামলা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে। আমরা তার এই হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে চাই।
একই গ্রামের জামাল মিয়া বলেন, আমার মালিকানাধীন জমি দলিল লেখক সালাহ উদ্দীন দলিল করতে গিয়ে হেবা দলিল করে, এতে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ দায়ের করলে জিয়া আমাকে মিথ্যে মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠায়। আমি তার বিচার চাই। এ কর্মসূচিতে ‘চিহ্নিত ভূমিদস্যু, দখলবাজ, ভূমি দালাল ও চাঁদাবাজ আরিফুল ইসলাম জিয়াসহ তার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা ও তাদের বিচার দাবি’ লেখা সম্বলিত ব্যানার এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বিভিন্ন প্লেকার্ড হাতে নিয়ে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সদস্যের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অর্ধশতাধিক লোক অংশ নেন।
Leave a Reply