যশোর প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় “অশনির” প্রভাবে বর্ষণের কারণে যশোরের অধিকাংশ সবজি ক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে সবজি ক্ষেতের দিকে হতাশার চোখে তাকিয়ে আছেন চাষিরা। তারা বলেছেন সবজি চাষ করে লাভের স্বপ্নে যেনো বড় ধাক্কা দিয়েছে বৃষ্টি। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে সবজির ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিদিষ্ট করা হয়নি। জলমগ্ন ক্ষেত থেকে পানি সরিয়ে ফেলার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কেননা ক্ষেত জলমগ্ন থাকলে শসা, মরিচ, পটল, বেগুনের সাথে গীষ্মকালীন শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপির ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টিতে যশোর জেলার মধ্যে সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সবজির রাজ্য হিসেবে পরিচিত সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে। জেলার মধ্যে এই তিন ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয়ে থাকে। এবারও চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে সাড়ে ৭শ’ হেক্টর, হৈবতপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৫ হেক্টর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে ৬শ’৯০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ করা হয়েছে।
কিন্তু ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে তিন দিনের বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ সবজি ক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কৃষকেরা ক্ষেত থেকে পানি বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ।
সবজি চাষি শাহিদুর রহমান, মিন্টু মিয়া, মাসুদুর রহমান জানান, ক্ষেত জলমগ্ন হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে শসা, মরিচ ,পটল, বেগুনের সাথে গীষ্মকালীন শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপির। লাভের স্বপ্নে তারা বৃষ্টির ধাক্কা খেয়েছেন। তারা আরও জানান,
অল্প বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের কোনো ক্ষতি না হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। তিন দিনের বৃষ্টিতে অধিকাংশ ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। এতে সবজি গাছে পচন ধরে নষ্ট হয়ে যাবে। প্রতিটি ক্ষেতেরই আশি থেকে নব্বই শতাংশ পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম ও আশেক মাহমুদ জানান, অনেক সবজি ক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে কৃষকেরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারপরেও সবজি ক্ষেত রক্ষা করার জন্য নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক দীপঙ্কর দাস জানান, যশোর সবজির জেলা হিসেবে সারা দেশে পরিচিত। জেলায় এবার ১৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। তিন দিনের বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়া ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কৃষকদের দ্রুত সরানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এভাবে আরও দুই দিন বৃষ্টি হলে শসা, মরিচ, পটল, বেগুন ও গীষ্মকালীন শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপির ব্যাপক ক্ষতি হবে। কেননা এসব সবজির গোড়া পুরোটা পচে যাবে। বৃষ্টির ধাক্কায় সবজি চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতি হবেন।
Leave a Reply