গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় তিন মাইল রামচন্দ্রপুর ও বল্লমঝাড় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় একটি হাতির তান্ডবে প্রায় ৫০০ বিঘা জমির বোরো ফসল বিনষ্ট হয়েছে বলে গ্রাম বাসি জানায় ।
১৭ এপ্রিল রবিবার সকালে হাতিটি তান্ডব শুরু করে। সদ্য শীষ বের হওয়া এসব বোরো ফসল নষ্ট হওয়ায় ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে।সকাল থেকে প্রায় সাত ঘন্টা চেষ্টা করেও বিকেল সাড়ে ৫টা পযর্ন্ত কোনও ভাবেই হাতিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি হাতির মালিক (মাউত), ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা জানায়, সকালে গাইবান্ধা-নাকাইহাট সড়কে হাতির মাউত হাতিটিকে দিয়ে আটোরিক্সা, রিক্সা-ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকিয়ে চাঁদা তুলছিলো। এমন সময় হঠাৎ করে হাতিটি মাউতের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায় এবং রাস্তার পাশের ধানের জমি দিয়ে হাটতে থাকে। হাতিটির মালিক শত চেষ্টা করেও কোনও ভাবেই এটির নিয়ন্ত্রণে নিতে পায়নি।
হাতিটি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রামচন্দ্রপুর, আকন্দপাড়া, তিনমাইল , মাঠেরপাড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকার ধানের জমিতে তান্ডব চালায়।এতে ব্যাপক ফসলের ক্ষয় ক্ষতি হয় । হাতির এই পাগলামোর এমন ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন বয়সের শত শত মানুষ হাতিটি দেখতে ভীড় জমায় রাস্তা ও জমিতে ।
তিন মাইল এলাকার কয়েকজন কৃষক জানায়, কেবল ইরিধানগুলো ফুলতিছে (সদ্য শীষ বের হওয়া) । আরও একজন জানায় বাবা মোর ১৬ শতক জমি ভালোই ধান হচিলো এই ধান দিয়ে মোর বছর চলি জায় এ বছর মুই কি খাম । এই সময় হাতিটি জমিতে নেমে যেভাবে হাটাহাটি করছে। তাতে জমির অনেক ধান নষ্ট হবে।
হাতিটি যে দিক দিয়ে যাচ্ছে সেখানকার ধানের গাছগুলো নষ্ট হচ্ছে। এসময় তারা আতঙ্কে রয়েছেন বলেও জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে, হাতিটির মাউতের বরাদ দিয়ে গাইবান্ধা ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু জানান, গাইবান্ধা সদর রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালুয়া নামক এলাকায় প্রতি বছর বৈশাখী মেলা হয় । বগুড়া থেকে আনা হয় হাতিটিকে , হাতিটির এমন আচরনে মালিক মাসুদ ও খায়রুলের কথা বলে জানা যায় হাতিটি গরম ( হিটে) এসেছে তাই এমন আচরন করতেছে । হাতিটিকে প্রজনন করানোর জন্য বগুড়া থেকে পুরুষ হাতি আনা হচ্ছে ।
Leave a Reply