দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময়েই বিদ্যুৎ না থাকায় চরম অতিষ্টের মধ্যে রয়েছেন দুর্গাপুর উপজেলাবাসী।
বিশেষ করে রমজান মাসের শুরুতেই দেখা মিলল পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। ইফতার, সেহেরী ও নামাজে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে রোজাদাররাও। প্রথম রোজা থেকেই অতিরিক্ত ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন। দিনে ও রাতে বেশিরভাগ সময় গ্রাম অঞ্চলে একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এছাড়াও ঘনঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজের কারনে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ফ্রিজ, টিভি, ফ্যানসহ নানা ইলেকট্রিক জিনিসপত্র বিকল হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের ফলে যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মুসল্লিরা,তেমনি লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে স্কুল-কলেজ পড়য়া শিক্ষার্থীদের। অসহনীয় তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরমে দূর্ভোগে পড়েছে সাধারণমানুষ। এমন অবস্থায় মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বৈদ্যুতিক লোডশেডিংয়ের শিকার জনসাধারণ রমজান মাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
পৌর শহরের বাসিন্দারা জানান,পবিত্র রমজান মাসে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময়েও স্বাভাবিক নেই বিদ্যুত। সকাল, দুপুর, বিকাল,রাত দিন বিদ্যুৎ যাওয়া আসা চলছেই। মানা হচ্ছে না পবিত্র মাসের বিশেষ মূহুর্তগুলোকেও। প্রথম রোজা থেকেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গেছে।
গাওকান্দিয়া গ্রামের একব্যাক্তি বলেন,বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা এতোটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে,বিদ্যুৎ সংযোগ যে আছে মাঝে মাঝে সে কথা ভুলে যেতে হয়।‘রোজার শুরু থেকে বিদ্যুতের সমস্যা শুরু হয়েছে। ইফতারির সময় চলে যাচ্ছে। মাঝে দিয়ে এসে এশার আজানের পর চলে যাচ্ছে। এরপর তারাবির নামাজের সময়ও বিদ্যুৎ পাইনা ।’ অনেক সময় ইফতার ও সেহরি খেতে হচ্ছে অন্ধকারে। এমন অবস্থা থেকে আমরা পরিথান চাই।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম জানান,মূলত গ্যাসের সংকটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের সমস্যা থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির ফলে সারাদেশে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। তিনি আরও জানান,ময়মনসিংহের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পুরুটাই গ্যাস নির্ভর সেখানেও গ্যাস কমে যাওয়ায় এটার উৎপাদন ক্ষমতা কমে গেছে। অন্যদিকে জামালপুর একটি পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ রয়েছে। ফলে সেখান থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। মূলত দুইদিকেই উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই ভয়াবহ লোডশেডিং।
Leave a Reply