বাঁশখালী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে বেপরোয়া ভূমি দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করল শতবর্ষী পুরানো একটি খাল অবৈধভাবে ভরাট করার প্রক্রিয়া। আটক করা হয়েছে সেই বেপরোয়া ভুমি দস্যুদের।
৩১ মার্চ’২২ ইং, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার সময় উপজেলার শীলকুপ ইউনিয়নের মোহাব্বত পাড়ায় খাল দখল ও ভরাট করার অভিযোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুকের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
এতে সরকারী আদেশ অমান্য করে খাল ভরাট করে স্থাপনা তৈরী ও পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অপরাধে দক্ষিণ জলদীর মোঃ ফয়জুল্লাহ (৫১) কে ৭( সাত) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি খালে অবস্থিত কালভার্টের নিচে ও সামনের দিকে অবৈধভাবে ড্যাম্পার দিয়ে বালি ভরাট করে মজবুত বহুতল ভবনের স্থাপনা নির্মান শুরু করেন।
এতে শতবর্ষী পুরানো একটি খাল দিয়ে পুরো এলাকার পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। ভূমিদস্যু ফয়েজুল্লাহ এলাকার সাধারন জনতার অভিযোগ অনুরোধকে উপেক্ষা করে অনেকটা পেশি শক্তির প্রভাব খাটিয়ে সরকারী খাস জায়গায় অবৈধ দখল প্রক্রিয়া চালু রাখলে ফুঁসে উঠে জনমত। মুহুর্তেই তা বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইর্যাল হয়ে প্রচার হলে স্থানীয় জনগণের মাঝেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় জনগন অবৈধ দখলদারকে গ্রেফতার পুর্বক শতবর্ষী খালটি রক্ষা করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাঁছে লিখিত অভিযোগ করেন। উপজেলা প্রশাসন জনমতের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত অভিযানে এসে অভিযোগের চাক্ষুষ প্রমাণ পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই অবৈধ দখলদারকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট আরো বলেন, কোন অসাধু ব্যক্তি সরকারী খাস জমি ও পাবলিক ইজমেন্টসহ অবৈধভাবে জমি দখলকারীদের বিরদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান চৌধুরী জানান,পাবলিক ইজমেন্ট দখল করে খাল ভরাট না করার জন্যে বারবার নির্দেশনা সত্বেও তিনি খাল ভরাট করেছেন। যা সরকারী আদেশ অমান্য করা। যারফলে তাকে ৭দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।জানা গেছে, প্রধান সড়ক হয়ে মনছুরিয়া বাজার হতে জালিয়াখালী নতুন বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কের অদূরে মোহাব্বত আলী পাড়ার পূর্ব দিকে ব্রিজ দিয়ে বয়ে যাওয়া শতবর্ষী শীলকূপ খালটি জালিয়াখালী খালের সাথে সংযুক্ত।
এ শতবর্ষী খাল দিয়ে বর্ষাকালে পূর্ব-মনকিচর এলাকার অধিকাংশ চাষীদের ও মোহাব্বত আলীপাড়ার ৫ শতাধিক পরিবারের পানি চলাচল করে থাকে। এটি একমাত্র বিকল্প খাল। ফয়েজ উল্যাহ নামে ওই ব্যক্তি পাকা ভবন নির্মাণ করছিলেন খালটিতে। এতে এলাকাবাসী বাধা দিলে উল্টো হুমকি-ধমকি দিয়ে প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ সড়কও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা কিছু করতে পারছিলনা। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখলদারদের গ্রেফতার ও সাজা প্রদানপুর্বক খালটি রক্ষা করায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply