বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে সেই মানসিক ভারসাম্যহীন প্রতিবন্ধী সাইফুলের পাশে দাঁড়ালেলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারিয়াম খাতুন।গত (২২ফেব্রুয়ারি) মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুলকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিউজ ও ফেসবুকে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রশাসনের।
সোমবার(১৪ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর গ্রামে ওই মানসিক প্রতিবন্ধী সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোজ-খবর নেয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার( ইউএনও) মারিয়াম খাতুন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল রানা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই রিক্সা চালিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতো সাইফুল। স্ত্রী একছেলে ও এক মেয়ে ও মাকে নিয়ে ভালোই চলছিল সাইফুলের সংসার। হঠৎ একদিন মস্তিষ্ক সমস্যা দেখা দিলে অর্থাভাবে তেমন সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেনি পরিবার। এরপর কারণে-অকারণে বাড়ি-ঘর ভাংচুরসহ মানুষকে মারধর করতে উদ্যত হতো। উপায় না দেখে গ্রাম প্রধানদের পরামর্শে বাধ্য হয়ে শেকলবন্দী করে রাখে পরিবার। পরিবারের লোকজন তার বাড়ির পাশে খোলা একটি জায়গায় পলিথিনের ছাউনি ও চটের বেড়া দিয়ে একটি তাঁবু তৈরি করে দিয়েছেন। হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ছাউনি সংলগ্ন সুপারির গাছের সাথে শিকল বেঁধে পায়ে পরিয়ে রাখে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এ ভাবেই চলতে থাকে সাইফুলের জীবন।
সাইফুলের মা হেলেজান বেগম বলেন, পরিবারের আয় বলতে শুধু মাসিক বরাদ্দের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা। সাইফুল অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই আমি ও ছেলের বৌ মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকম সংসার চালায়।
নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) মারিয়াম খাতুন বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে সাইফুলের বিষয়টি জানতে পারি। সাইফুলের পরিবারটির সত্যিই অসহায় তাকে চিকিৎসা করলে সে স্বাভাবিক জীবনে আবার ফিরে আসবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকা, একটি ঘর, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা খরচ এবং সাইফুলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
Leave a Reply