রাজশাহী
প্রতিনিধি:
রাজশাহীতে এবার আমের মুকুলে স্বপ্ন দেখতে পারছে না বাগান মালিক ও ব্যাসায়িরা। গত বছরের তুলনায় এবারের গাছে মুকুল অনেক কম। আম চাষিরা তাদের কাঙ্খিত ফল আশা করতে পারছে না। আম চাষের পরিমাণ বৃদ্ধির কারনে গত বারের মতই আম উৎপাদন হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুল থেকে আমের গুটিও এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ফল বিশেষজ্ঞ ও কৃষিবিদরা ।
রাজশাহীতে ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন। যা গতবার ছিল ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন। এবারের মৌসুমে ৫৮২ হেক্টর জমিতে আম চাষ বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৫.৫৮ মেট্রিক টন হারে আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনও বেশি হবে বলে জানান, রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম।
অপরদিকে রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় আমের চাষ হলেও চারঘাট ও বাঘা উপজেলার আম সর্বপরি সুস্বাদু। যার প্রমান এখন পর্র্যন্ত বহন করছে। চারঘাট উপজেলার কৃষিবিদ লৎফুন নাহার পত্রিকার প্রতিবেদককে বলেন, ৩ হাজার ৯শত হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবারের আমের মুকুল কম থাকলেও ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষি দপ্তর। বাঘা উপজেলায় ৮ হাজার ৩শত ৭০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে গতবারের মতই ফলন হবে বলে জানান, শফিউল্লাহ সুলতান।
সার্বিপরি আম চাষে উপযুক্ত আবহাওয়া থাকলে বিগতদিনের মতই আম চাষিরা তাদের কাঙ্খিত ফলন পাবে। সরজমিনে চাষিদের বাগান পর্যবেক্ষন করে দেখাগেছে গোপালভোগ, খিরসাপাত, লক্ষনা (লক্ষনভোগ), ফজলি, অম্রপালি ও বারি-৪ আমের মুকুল কম হলেও চাষাবাদ বেড়েছে। প্রাকৃতিক ভাবে কোন ঝড়-ঝাপটা না হলে ভাল ফলন পাবে কৃষক ও আম ব্যবসায়ীরা। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা কৃষি দপ্তরের উপ-পরিচালক মোজদার হোসেন।
Leave a Reply