দুর্গাপুর (নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:
জন্মের পর ভালো ছিল সাকিব। কিন্তু জন্মের ৯ বছর পর একদিন হঠাৎ সাকিবের শরীরে জ্বর আসে। এরপর জ্বর কমলেও পা-পিঠ বাঁকা হয়ে যায়। নিজের শক্তিতে চলাফেরা করতে পারে না সাকিব। নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের বালিকান্দি গ্রামের দিনমজুর মো. রফিকুল ইসলাম এর ২য় ছেলে সাকিব। রফিকুল ইসলাম ধান মহলে শ্রমিকের কাজ করেন। সাকিবের শারীরিক অক্ষমতা ঠেলে দিয়েছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো কিশোর সাকিব সবার মতো স্বাভাবিক ভাবেই চলাফেরা করতে পারতো এমনটাই আশা করছে সাকিবের পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশী কিশোররা যখন স্কুলে যায় তখন ৩ চাকার বিয়ারিং গাড়ির উপর বসে সবার দিকে চেয়ে থাকে সাকিব। খেলাধুলা,স্কুলে যাওয়া তো দূরের কথা,স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারেনা সাকিব। বাবার পক্ষে ছেলের জন্য কিনে দেয়া সম্ভব হয়নি একটি হুইল চেয়ার। তাই বিয়ারিং দিয়ে বানিয়ে দিয়েছে ৩ চাকার গাড়ি যা দিয়ে তাকে ঠেলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা নেওয়া হয়। দিনমজুরির অল্প উপার্জনে সংসার চলে কোনো রকমে। মা নাসিমা খাতুন সারাদিনের সবটুকু সময় সাকিবের পিছনেই কাটিয়ে থাকে গোসল,খাওয়া-দাওয়া,সবকিছুই কষ্টকর কারণ সাকিবের শারীরিক ওজন বেশি কাঁধে করেও নেওয়া যায় না। ‘আল্লাহ আমার ছেলেকে ভালো করে দাও আমি আর কিছু চাই না’ বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে সাকিবের মা।
প্রতিবেশী আব্দুল হেকিম বলেন, ছেলেটি ছোটবেলায় সুস্থ স্বাভাবিক ভাবেই চলাফেরা করেছে তবে হঠাৎ জ্বর থেকেই হাত-পা-পিট বেঁকে যায়। এমন অবস্থায় সাকিবকে গোসল করানো সহ একজায়গায় থেকে অন্য জায়গায় নিতেও কষ্টকর হয় তার পরিবারের তবে একটি হুইল চেয়ার পেলে খুবই ভালো হতো।
সাকিবের বাবা রফিকুল বলেন, ছেলেটা জন্মের পর ভালো ছিল। ৫ বছর আগে একদিন হঠাৎ সাকিবের শরীরে জ্বর আসে। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করি পরে ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ এ নিয়ে যায়, কিন্তু অনেক পরিক্ষা নিরিক্ষার পরও ধরা পরেনি তার রোগ। এইভাবেই আস্তে আস্তে পা বাকাঁ হয়ে যায়। ভালো চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক অবস্থাও নেই । আমি দিনমজুর বাবা আমার পক্ষে ভালো চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। যদি সমাজের বিত্তবানদের সহয়তা পেতাম তাহলে ভালো চিকিৎসা করাতাম, তিনি আরও বলেন,একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা হলে (সাকিব) একটু চলাফেরা করার সুযোগ পেত। এতে আমরাও কিছুটা স্বস্তি পেতাম।
Leave a Reply