গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
সাঁওতালসহ জাতিগত সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা করেছে সাঁওতালরা।
৫ মার্চ শনিবার সকাল ১১টায় গাইবান্ধার সীমান্তবর্তী দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার কালুপাড়া মাঠে ইউএনডিপি-হিউম্যান রাইটস্ প্রোগ্রাম, সুইজারল্যান্ড ও সুইডেন দূতাবাসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ।
এ কর্মসূচির আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা অবলম্বন।
আদিবাসী নেতা মাথিয়াস মার্ডির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শতাধিক সাঁওতাল নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশ গ্রহণ করেন ।
ঘোড়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আদিবাসী সাঁওতালদের ৪টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
এ বিষয়ে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক ও আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ আহবায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু, আদিবাসী নেত্রী প্রিসিলা মুরমু, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ গাইবান্ধা সদর উপজেলা আহবায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ সদস্য সচিব হাসান মোর্শেদ দীপন, আদিবাসী নেত্রী রোজলিন সরেন, মানবাধিকার কর্মী ওমর হাবীব বাদশা, একেএম মনির সুইট প্রমুখ।
বক্তারা সমতলের আদিবাসীরা বিলুপ্ত হওয়ার পথে উল্লেখ করে বলেন, শুধু আদিবাসীই বিলুপ্ত হচ্ছে না, তাঁদের সংস্কৃতিও বিলুপ্ত হচ্ছে। এরা বাংলাদেশের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠী। অধিকাংশই এরা ভূমিহীন, তাঁদের হাতে ভূমি নেই।তারা বলেন, আদিবাসীরা জাতীয়তাবাদী ঘৃণার শিকার। ১৯৭১ সালের আগে আমরা যেমন পাকিস্তানিদের ঘৃণার শিকার হয়েছি, তেমনি আমরা এখন আদিবাসীদের ঘৃণা করছি।আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় আদিবাসী মন্ত্রণালয় স্থাপনের দাবী করে ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ গ্রহন ও অবিলম্বে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের নিজস্ব ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের দাবি করেন বক্তারা।
Leave a Reply