পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ বিয়ের ষোল বছর পর যৌতুকের জন্য পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের
বামনহাট গ্রামের এক গৃহবধূ।
স্বামী ও শ্বাশুরীর নির্মম নির্যাতনে গুরুতর আহত দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ বর্তমানে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলার বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের বামনহাট এলাকার আকবর আলীর ছেলে শমশের আলীর সাথে ষোল বছর আগে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় একই উপজেলার কামাত কাজলদিঘী এলাকার মৃত আলিমউদ্দীনের মেয়ে আসমা বেগমের।
মেয়ের সুখের জন্য আসমার দরিদ্র কৃষক পরিবার বিয়ের সময় জামাই শমশের আলীকে ৩১ হাজার টাকা যৌতুকও দেয়।
বেশ ভালোই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। কোল জুড়ে আসে এক ছেলে ও এক মেয়ে।
সন্তান জন্ম হবার পর আসমার সেই সুখের ঘরে আর সুখ স্থায়ী হয়নি।
নতুন করে যৌতুকের দাবী করে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। দিনরাত চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। শত কষ্টের পর সুখ হয়তো একদিন আসবে এই ভেবে সন্তানের মুখ চেয়ে এতোদিন স্বামী শ্বাশুড়ির পাশবিক অত্যাচার সহ্য করেছে আসমা। মাঝে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে। মুচলেকা দিয়ে ঘরে ফিরে যায় শমশের। তবে এবারের অত্যাচারের মাত্রা তীব্র হওয়ায় আর বাড়িতে থাকতে পারেনি আসমা। নির্মম নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে দুই সন্তানসহ এখন বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দূর্বিসহ জীবন কাটছে। গত ২৮ফেব্রুয়ারী রাতে আহত অবস্থায় বোদা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় আসমাকে।
বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য প্রায়ই শারীরিক অত্যাচার করে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলে জানান নির্যাতিত এই গৃহবধূ। একই সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায় বিচার চেয়েছেন।
যৌতুকের জন্য একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হবার কথা জানান আসমার ভাই সাদেকুল ইসলাম।
বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল আফিসার ডাক্তার সাদমান সাকিব জানান, শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসমা গত ২৮ ফেব্রুয়ারী রাতে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ্য।
Leave a Reply