যশোর প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের গোড়পাড়া বাজার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ন ও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র নিয়ে পাল্টা-পাল্টি ধাওয়া। দুইজন ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আহত।
বৃহস্পতিবার(২৪ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার গোড়পাড়া বাজারের কমিটি নিয়ে নিজামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বিপুলের কর্মীদের মধ্যে দুপক্ষের তর্ক-বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বাজারের ডোকেরেটর ব্যবসায়ী নূর ডেকোরেটর স্বত্বাধিকারী আজিজুর হক ও ছেলে মেহেদী হাসানের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা হামলা চালায়। আহত মেহেদী হাসান ডেকোরেটর ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় একটি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
জানা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।
সরেজমিনে পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, গোড়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ন হওয়ায় ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বিপুলসহ বাজারের ব্যবসায়ীদের উপস্থিততে তা বাতিল বা তাদের কার্যক্রম স্থগিত করে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু এরই মধ্যে ইউনিয়নের কিছু অসাধু ব্যক্তি বাজারে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।
এসময় আরো জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন মেহেদী হাসান চেয়ারম্যানের যোগসাজশে বাজারে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি করতেন। কমিটি মেয়াদোত্তীর্ন হওয়ার পর মেহেদী হাসান বাজারে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা করে যাচ্ছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় আলিমুরের ছেলে রাব্বি, মুনাজাত হোসেনের ছেলে সোহেল, হাজি লাল মিয়ার ছেলে নুরুউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন তার উপর হামলা চালায়। ছেলেকে রক্ষা করতে আসলে বাবা আজিজুর রহমান পিঠে আঘাত পান।
এই বিষয়ে নিজামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, নির্বাচনের পর থেকে নৌকার পক্ষে কাজ করায় নৌকার কর্মীরা বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই ঘটনায় সূত্রপাত। প্রশাসনের প্রতি এ ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দাবী জানাচ্ছি।
বর্তমান চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বিপুল বাংলাদেশ বুলিটিনকে মুঠোফোনে জানান, বাজারে ব্যবসায়ীদের কমিটি নিয়ে এই ঘটণা ঘটে। রাজনীতি সূত্রে ইউনিয়নবাসীর কাছে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট সাবেক চেয়ারম্যান নানা ধরনের কুচক্রী কাজকর্ম করছে।
এই বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খান জানান, মারধরের অভিযোগ থানায় এসেছে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে যদি অপরাধীর অপরাধ পাওয়া যায় তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply