মহি উদ্দিন আরিফ,ধর্মপাশা প্রতিনিধিঃ ভাষা আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধার প্রতিক শহীদ মিনার। ১৯৫২ সালে এই ভাষার জন্য ছাত্ররাই বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল রাজপথে। ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ১৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই কোন শহীদ মিনার।
ধর্মপাশা উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ২১৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্টানের মধ্যে ২৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে রয়েছে শহীদ মিনার। শতকরায় ৮৯.৪ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্টানে নেই শহীদ মিনার। স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও জাতীয় শহীদ দিবসে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষার্থীরা অস্থায়ীভাবে কলাগাছ,বাঁশ, কাঠ এবং ইট দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রভাতফেরী ও শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোসহ ২১-এর চেতনা বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ না করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। গোলকপুর হাজী আব্দুল হাফেজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী লিমা পারভীন জানায়, ভাষা দিবসে আমরা কলার গাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা জানাই।
হলিদাকান্দা দঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ বলেন,আমাদের বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন,দুর্গম হাওরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোতে জায়গা সংকটের কারণে অনেক সময় শহীদ মিনার নির্মান সম্ভব হয় নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান পলাশ বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্টানে শহীদ মিনার নেই, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে যদি শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় তাহলে উপজেলা প্রসাসণ সর্বাত্বক সহযোগিতা করবে।
Leave a Reply