কুবি প্রতিনিধি: পূর্ব শত্রুতার জেরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থী তাহমিনা মজুমদার ও তার পরিবারের ওপর প্রতিবেশীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার ১৮ (ফেব্রুয়ারী) আনুমানিক বিকাল সাড়ে ৫ টায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের শুকনতলা গ্রামে এই আক্রমন চালানো হয়। ঘটনার পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাই চৌদ্দগ্রাম থানায় ভাংচুর, হতাহত এবং লুটতরাজের অভিযোগ মর্মে প্রতিবেশী আব্দুল ওয়াদুদ এবং অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে অভিযুক্ত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ভুক্তভোগীরা হলেন তাহমিনার বাবা দেলোয়ার হোসেন (৬০) মা মাহফুজা বেগম (৫২) ছোট ভাই আল-আমিন(১৮), ছোট বোন তানিয়া(১৪)। বিকালের প্রথম আক্রমণের পর থানায় জিডি করা হলেও একইদিনে পরপর চারবার তাদের বাড়িতে ভাংচুর, মারামারি ও লুটপাট করে অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ‘ পূর্ব দ্বন্দ্বের জের, নিজ গ্রামের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়ে এবং ছোট ভাই-বোন পড়াশোনায় আছে বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত প্রতিবেশীরা তার মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদেরকে নানা কটুক্তি করে এসেছে। তবে গতকাল(১৮ ফেব্রুয়ারি) তার ছোট ভাইকে হঠাৎ মারধর শুরু করলে তারা থানায় জিডি করেন এবং ঘটনার সময় সেদিন তার ছোটবোন তাকে ফোনে এই হামলার কথা জানালে তিনি বাড়িতে গেলে স্বচক্ষে ভাংচুর ও হামলার আলামত দেখতে পান।’
হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, জমি নিয়ে দেলোয়ার ও তার ভাইয়ের দ্বন্দ্ব নিরসনে গ্রামের সর্দার হিসেবে আমি দু’পক্ষকে সালিশে ডাকি। সালিশে দেলোয়ারের স্ত্রী অশ্রাব্য ভাষায় কথা বললে গ্রামের মুরুব্বিরা ক্ষিপ্ত ছিলো তাদের ওপর। তাই দেলোয়ার হোসেন তার স্ত্রীর পক্ষে ক্ষমা চান। ১৮ তারিখ বিকালে আমি পুকুরের দিকে গেলে, দেলোয়ারের ছেলে আল আমিন আমার ওপর আক্রমণ করলে ক্ষোভে গ্রামবাসীরা তাদের ওপর আক্রমণ করে এবং এই ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরো বলেন, আমি কাউকে মারিনি, আমাকেই প্রথমে আঘাত করা হয়েছে। গ্রামের সরদারকে মারার ক্ষোভে মূলত গ্রামবাসীরা এরকম আচরণ করেছে তাদের সাথে। এখানে আমার কোনো দায় নেই।
এই ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমরা এখনও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করিনি, তবে প্রাথমিকভাবে গ্রামের চেয়ারম্যান এর সাথে এই বিষয়ে কথা হয়েছে। তার মতে এটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব। খুব দ্রুতই আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার এর ব্যবস্থা করবো’।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটা আমাকে ঘটনা জানিয়েছে। ঘটনাটি যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের তাই এখানে প্রশাসন চাইলেও সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। তবে আমি স্থানীয় বিচারকদের নাম্বার কালেক্ট করেছি এবং তাদেরকে বলে দিবো যেন সুষ্ঠুভাবে বিচার করে।’
উল্লেখ্য, বছরখানেক আগে দূর্বৃত্তদের অপকর্মে বাধা দেওয়ার জের থেকেই এই কলহের সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়।
Leave a Reply