মোঃ সাইফ উদ্দন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধানঃ
কুমিল্লা বর্ষাকাল আসার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনের নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে নগরীর নালা পরিষ্কার ও নতুন নালা তৈরীসহ করছেন বিভিন্ন কর্ম-পরিকল্পনা।
সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতার স্থাপনের নাম জানতে চাওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায় প্রতি উত্তরসহ ৩০০টি মন্তব্যে বর্ষাকালে নগরীর প্রায় একশ জলাবদ্ধতার স্থানের কথা উল্লেখ করেছেন বাসিন্দা। সিটি কতৃপক্ষ তাদের তালিকা মিলিয়ে ২৭ টি ওয়ার্ডে ৪২২ টি নালা পরিষ্কার ও ১০টি ভরাটকৃত খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের পানি নিষ্কাষনের জন্য এ তালিকা করা হয়। তাছাড়া তালিকা হয়েছে, সহসাই অবৈধ খাল দখলদারদের বিরুদ্বে অভিযানে যাচ্ছে নগর কতৃপক্ষ।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অফিসিয়াল ফেসবুকে মন্তব্য দেখা যায় নগরীর জলাবদ্ধতার এলাকার মধ্যে ১নং ওয়ার্ড বিষ্ণুপুর মধ্যপাড়া মসজিদ সড়ক, মুন্সেফ কোয়ার্টার পেশকার বাড়ী সড়ক। ২ নম্বর ওয়ার্ড ছোটরা পশ্চিমপাড়া। ৩নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম কালিয়াজুরী, রেসকোর্স, কবরস্থান ফটক, ইলিয়াস খাঁন মসজিদ সড়ক, কালিয়াজুরী চিড়িয়াখানা সড়ক, কাঠেরপুল, উত্তর রেইসকোর্স, নোয়াব মিয়া সড়ক, পাসপোর্ট অফিসের গলি, তরব আলি দরগা সড়ক, কালিয়াজুরী পিটিআই এর আশে পাশের এলাকা, কালিয়াজুরি প্রাইমারি স্কুল থেকে মুড়াপাড়া রেলগেইট পর্যন্ত । ৪নং ওয়ার্ড আমানিয়া বাড়ি হয়ে ভাটার পুকুর বাঁশ মুড়া পযর্ন্ত, বিষ্ণুপুর চৌমহুনী কবরস্থান সড়ক, কাপ্তান বাজার, আমানিয়া বাড়ী থেকে ভাটার পুকুরপাড়, আদালতের উত্তর দিকের সড়ক, মগবাড়ি সড়ক, বিষ্ণুপুর পানির টাংকি সংলগ্ন কবরস্থান রোড, জজকোর্ট হয়ে মগবাড়ী চৌমুহনী পর্যন্ত। ৭ নম্বর ওয়ার্ড খানবাড়ী মসজিদের উওর পাশদিয়ে অশোকতলা রেলগইট যাওয়ার পথ। গোবিন্দপুর খলিফা বাড়ী সড়ক,খানকা শরীফ সড়ক, ,ডিসি গল্লি সড়ক ,উত্তর পাড়া, অশোকতলা প্রফেসর পাড়া, মদিনা মসজিদ সড়ক, রামকৃষ্ণ আশ্রমের দক্ষিণে, ফজল খান ছাএাবাস সড়ক এর শেষ অংশে ৮ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া রেসিডেনসিয়াল স্কুল সড়ক, ঠাকুরপাড়া বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন, শিক্ষাবোর্ডের পিছনে ও টাওয়ারের গলি, কামিনী চন্দ সারনি, কালিতলা,মদিনা মসজিদ সড়ক, ঠাকুর পাড়া বাগান বাড়ি এলাকা। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন চৌধুরীপাড়া কবরস্থান থেকে শুরু করে স্টেশন সড়ক পর্যন্ত, দক্ষিণ বাগিচাগাঁও স্বর্ণকুটিরের পাশের গলি। ১১নম্বর ওয়ার্ডের সদর হাসপাতাল সড়ক, তাছাড়া কান্দিরপাড় টাউন হলের বিপরীতে কান্দি খালের ওপর কালভার্ট নিচু হওয়ার কারণে কান্দিপাড় মসজিদের পেছনের ড্রেন হয়ে পানি যেতে দেরি হয়। সেখান থেকে সদর হাসপাতাল সড়ক পর্যন্ত দখল কান্দিখাল। ভিক্টেরিয়া কলেজ সড়ক উজির দিঘীর পাড় বড় নালা দখলে সরু। মনোহরপুর রুপালী ব্যাংক থেকে সোনালী ব্যাংকের গেইট পর্যন্ত। ১২নম্বর ওয়ার্ডের দিগাম্বরী তলা মসজিদের সড়ক, চকবাজার বাস স্ট্যান্ড এর পেছনের অংশ, থিরাপুকুর পাড় স্কুলের পেছনের অংশ। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহমান খন্দকার সড়ক, দক্ষিন চর্থা রিকশা গ্যারেজ থেকে সর্দার বাড়ি সড়ক, দক্ষিণ চর্থা পশ্চিম পাড়া, মহিলা কলেজ সংলগ্ন খাল, হালুয়াপাড়া সড়ক, কাশেমুল উলুম মাদ্রাসা গলি। ১৪নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর হইতে হাউজিং এস্টেট পর্যন্ত প্রধান তিন জায়গায় জলাবদ্ধতা বেশী হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয় মুরাদপুর বড় চৌমুহনী হইতে অহিদউল্লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত, মুরাদপুর ভূইয়া পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা, মুরাদপুর নমঃশূদ্র পাড়া । উত্তর চর্থা হোচ্ছামিয়া হাইস্কুলের পেছনের এলাকায়। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বজ্রপুর প্রাইমারী স্কুল থেকে মুরাদপুর চৌমুহনী পর্যন্ত, বজ্রপুর সার্কুলার সড়ক, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরাইশ পূর্বপাড়া, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড পাথুরিয়াপাড়া সেম্বা পুকুরপাড়, ডিবি গলির শেষাংশ, নুরপুর মাতৃসদন ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকা। ১৮নম্বর ওয়ার্ডের হাউজিং এস্টেট, কাটাবিল , হযরত পাড়া । ১৯নম্বর ওয়ার্ড উত্তর রসুলপুর, ডুলিপাড়া, পুর্ব পাড়া,রাজা পাড়া মুন্সী বাড়ীর সামনের সড়ক। ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড উনাইশার হিন্দুপাড়া, লক্ষী নগর চৌমুনী থেকে দিশা বন্ধের দিকে যাওয়া সড়ক। ২১ নম্বর ওয়ার্ড শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজের বিপরীত গলির সড়ক, মোল্লা বাড়ির সড়ক শাকতলা উত্তর পূর্ব পাড়া, মধ্যম আশ্রাফপুর কাজির হেঙ্গার এলাকা। ২৩নম্বর ওয়ার্ড মনিপুর দক্ষিণ পাড়া, চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড়। ২৪ নম্বর ওয়ার্ড গন্ধমতি-কোটবাড়ী সড়ক। ২৬নম্বর ওয়ার্ড এ ভঙ্গুর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কথা জানান এক বাসিন্দা। এছাড়া নগরীর চকবাজার থেকে রাজগঞ্জ সড়ক, কান্দিরপাড় মোড় থেকে নজরুল এভিনিউ সড়কের কর ভবন পযন্ত, ষ্টেডিয়াম এর সামনের সড়ক, কান্দিরপাড় সালাউদ্দিন থেকে টমছমব্রীজ পযর্ন্ত, ধর্মপুর কলেজ সড়কসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় একশ স্থানের জলাবদ্ধতার কথা লিখেছেন নগরবাসী।
আবু সুফিয়ান নামে এক বাসিন্দা লিখেছেন টমছমব্রিজ নিউ হোস্টেল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা পযন্ত কান্দিরখাল ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দখলে আছে। তা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। এ দখলের কারনে নগরীর জলাবদ্ধতার অন্যতম কারন।
নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাউছারা বেগম সুমি, পপি মনিসহ অনেকে লিখেছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতার দূভোর্গের কথা। লিখেছেন বর্ষাকালে রেইসকোর্স ও কাঠেরপুল এলাকার জলাবদ্ধতার কারনে পুরো ওয়ার্ডবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
মোঃ ফখরুল আলম মিঠু নামে এক বাসিন্দা লিখেছেন, পুরাতন ম্যাপ দেখলে বুঝা যায় কত পরিমান জলাশয় ছিলো, বর্তমানে যা ১০% এর কম। সর্বত্র জলাশয় ভরাটের প্রতিযোগিতা।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান বলেন, পেইজের সবার মন্তব্য তালিকা করা হয়েছে। সিটির তালিকার সাথে এগুলো সমন্বয় করে স্থানীয় কাউন্সিলরগণের মতামতসহ চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে ভরাটকৃত ৪২২টি নালা ও ১০টি খাল খনন করা হবে। জলাবদ্ধতা দূরকরনে বর্ষার আগেই প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নগরীর ভরাটকৃত সকল নালা ও খাল পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রতিদিন নিয়মিত কাজের পাশাপাশি বর্ষায় যাতে জলাবদ্ধতা না লাগে সেজন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। আমি প্রায় প্রতিটি নালা ও খাল পরিষ্কার করার সময় উপস্থিত থেকে তদারকি করছি।
Leave a Reply