মোঃ এরফান হোছাইন, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দরপত্র ফরম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে ১৭ই ফেব্রুয়ারী দুপুর থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এসে ফরম না পেয়ে একাধিক দরপত্র ফরম প্রত্যাশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন মূলত একটি সিন্ডিকেটের সাথে আতাত করে দরপত্র ফরম দেয়নি। ২১টি হাট বাজারের অনুকূলে মাত্র ৬৮টি দরপত্র ফরম বিক্রি হয়েছে। ফলে অনেকেই দরপত্র নিতে না পারায় রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।
এদিকে সরেজমিনে, ১৭ই ফেব্রুয়ারী বিকাল ৪টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গেলে ফরম বিতরণের রুমটি (তালা ছাড়া) বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যন্য স্টাফদের সাথে কথা বললে তারা জানান,দরপত্র ফরম দেওয়ার দায়িত্ব অফিসের প্রনয় নামে এক কর্মচারীর। সে কোথায় জানতে চাইলে অডিট করতে গেছে বলে জানা যায়। এদিকে প্রণয়ের ফোন নাম্বারে একাধিক কল দিলেও রিসিভ করেননি।
অভিযোগ আছে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডেকেটের সাথে আতাত করে ইউএনও অফিসের কর্মচারী প্রণয় কুমার পছন্দের ব্যক্তিদের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়াসহ বেশি মূল্য নিয়ে দরপত্র ফরম বিক্রি করে আসছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সিন্ডিকেটের প্রভাবে অডিটের নাম দিয়ে অফিস টাইম বন্ধ হওয়ার আগেই দরপত্র ফরম বিক্রি বন্ধ করে অডিট করার নামে তার রুম ত্যাগ করে ব্যস্ত থাকেন। বিকাল ৫টার সাথে সাথে তড়িগড়ি করে রেজিস্টারে ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) এর স্বাক্ষর নিয়ে ফরম দেওয়া বন্ধ করে দেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১০ ফ্রেবুয়ারী মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলামের কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা উপজেলাধীন হাটবাজার / ফেরীঘাট ও ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত হাটবাজারসমূহ ১৪২৯ বাংলা সনের ২১টি হাট-বাজারের দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্রের শেষ দিনে উপজেলার ২১ টি হাট বাজারে ৬৮ টি দরপত্রের ফরম দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০শে ফেব্রুয়ারি বেলা ১ টার আগেই দরপত্র দাখিল করতে হবে এবং ১টার পরই দরপত্র খোলা হবে।
ভুক্তভোগী মোঃ ওসমান জানান, সকাল থেকে অফিসে এসেই জেনেছি, প্রণয় নামে এক স্টাফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ফরম বিক্রির জন্য। কিন্তু সে অডিট করার নামে কোথায় চলে যান, তাকে একাধিক বার ফোন করা হলেও কল রিসিভ করেন নি। যার কারণে ফরম নিতে পারেনি। আমি এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এবিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাটবাজারের দরপত্র ফরম পাইনি এরকম কেউ অভিযোগ করেনি।
Leave a Reply