ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুই বছর যাবৎ সাব-রেজিস্টার পদ শূণ্য থাকায় অচল হয়ে পড়েছে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম। ফলে দলিল রেজিস্ট্রি, নতুন দলিল উত্তোলন ও দলিলের নকল সরবরাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে জমি ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সংশ্লিষ্টরা। খন্ডকালীন নিয়োগ পাওয়া সাবরেজিস্টার নানা কারণে অফিসে বসেন না নিয়মিত। ফলে জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে আসা মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অপর দিকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। কিন্তু স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় থমকে গেছে জমির রেজিস্ট্রি আর সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষসহ দলিল লেখক ও অফিস স্টাফরা। এভাবে মাসের পর মাস ধরে একটা সরকারি অফিস অকার্যকর হয়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অনেকের জরুরি চিকিৎসা, বিদেশ গমন, বিয়ে সাদী, জমির জাবেদা নকল উত্তলন আটকে আছে বলে জানিয়েছেন। দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও জমি বিক্রি করতে না পেরে নিরুপায় ভুক্তভোগী মানুষ মহাজনদের কাছে চড়া সুদে ঋণ নিতেও বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। জরুরি ভিত্তিতে অনেকে জমির হাতবদল করতে চাইলেও দীর্ঘায়িত হচ্ছে রেজিস্ট্রির কাজ।
ভূরুঙ্গামারী সাবরেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি সপ্তাহে গড়ে ১৫০ টির মতো দলিল রেজিস্ট্রি হয়। প্রতি মাসে এর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে পাঁচশত। সর্বশেষ খন্ডকালীন নিয়োগ পাওয়া সাবরেজিস্টার প্রফুল্ল কুমার গত দুই মাসে অফিস করেছেন মাত্র চার দিন। জমি রেজিস্ট্রি বন্ধ থাকায় প্রায় নয়শত দলিল আটকে আছে।
উপজেলার পশ্চিমছাট গোপালপুর গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, ‘আমার ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য জমি বিক্রি করা জরুরি। কিন্তু রেজিস্ট্রি না হওয়ায় কেউ জমি কিনতে চাচ্ছে না। ফলে ছেলের বিদেশ যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা দলিল লেখক সমিতি সভাপতি নূরুল হক বলেন, ‘এ অফিসের নিবন্ধনধারী ১২৯ জন দলিল লেখক রয়েছে। এর সঙ্গে আরও প্রায় শতাধিক সহকারী রয়েছেন। দলিল লেখা বন্ধ থাকায় এসব মানুষ পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। গত দুই মাসে রেজিস্ট্রির অপেক্ষায় জমা পড়ে আছে প্রায় নয়শো দলিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একজন স্থায়ী সাবরেজিস্টার নিয়োগের জন্য বার বার আবেদন করেও ফল হচ্ছে না। জন ভোগান্তি বিবেচনায় দ্রুত একজন স্থায়ী সাবরেজিস্টার নিয়োগ করার জোড় দাবী জানান তিনি।
খন্ডকালীন নিয়োগ পাওয়া সাবরেজিস্টার প্রফুল্ল কুমার জানান, গত ১ডিসেম্বর তিনি জেলা সাবরেজিস্টার অফিসে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন এবং জেলা সাব-রেজিস্টারের অনুমতি নিয়েই তিনি অফিসে আসছেন না।
জেলা সাবরেজিস্টার খালিদ মোহাম্মদ বিন আসাদ জানান , গোটা জেলায় তার হাতে সাবরেজিস্টার আছেন মাত্র ৪ জন। সেটা দিয়েই ৯ টি উপজেলা চালাচ্ছেন তিনি। তবে অবস্থা বিবেচনায় ভূরুঙ্গামারীতে স্থায়ী সাবরেজিস্টার নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন তিনি।
Leave a Reply