শেখ মো: আতিকুর রহমান আতিক,গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে কাঁদামাটি মিশ্রিত নিম্নমানের বালু ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগসাজস করে এই নিম্নমানের বালু ব্যবহার করছেন ঠিকাদার। ফলে কাজের স্থায়ীত্ব ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ঢাকার সাথে দূরত্ব কমাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর উপর একটি সেতু নির্মিত হচ্ছে। এই সেতুর সংযোগ সড়ক সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাটে ঢাকা-রংপুর জাতীয় মহাসড়কে গিয়ে যুক্ত হবে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকা থেকে সাদুল্লাপুর উপজেলা শহর হয়ে ধাপেরহাট পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক পাকা করণের কাজ পান রংপুরের মেসার্স খাইরুল কবির রানা নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কের উভয়পাশে ৬ ফুট প্রস্থ বৃদ্ধিসহ এতে ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। চলতি বছরের ১১ মার্চ দরপত্র আহবান করা হয় ও কাজ শেষ হবে আগামী বছরের ৮ অক্টোবর। সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে শুন্য দশমিক আট এফএম (ফাইনেস মডুলার্স) বালু দিতে হবে।
নিম্নমানের বালু ব্যবহার করায় এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৯ নভেম্বর প্রকল্প পরিচালকসহ এলজিইডির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা কর্মএলাকা পরিদর্শন করে ভরাট করা ১০ কিলোমিটার সড়ক থেকেই নিম্নমানের বালু সরাতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও বালু পরিবর্তন না করেই নিম্নমানের বালু দিয়ে কাজ করেছেন ঠিকাদার। ১৪ ডিসেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নিম্নমানের কাঁদামাটি মিশ্রিত বালু দিয়েই কাজ করা হচ্ছে। এসময় শ্রমিকরা জানান, তাদেরকে এই বালু ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে ঠিকাদার খাইরুল কবির রানা বলেন, যে বালু দেওয়া হয়েছে তা আর দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট পরিমাপের বালু দিয়েই কাজ করা হবে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহারিয়া খাঁন বিপ্লব বলেন, এই সড়কটি দিয়ে সুন্দরগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের যানবাহন চলাচল করবে। এতে করে ঢাকার সাথে ৬০ কিলোমিটার সড়ক কমে যাবে। অথচ নিম্নমানের বালু ব্যবহার করলে সড়কের স্থায়ীত্ব কমে যাবে। সরকারের টাকা অপচয় হবে।
উপজেলা ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, শুন্য দশমিক আট এফএমের বালু দূর থেকে আনলে ব্যয় বেড়ে যাবে বিধায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম ও উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগসাজসে ও তাদেরকে ম্যানেজ করে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল হাসান যোগসাজসের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরীক্ষা করার সময় কিছু নিম্নমানের বালু পাওয়ায় ঠিকাদারকে সেই বালু পরিবর্তন করার কথা বলা হয়। নির্দিষ্ট বালু দিয়েই কাজ করতে হবে। অন্যথায় আবার পরীক্ষার সময় নির্দিষ্ট বালু পাওয়া না গেলে তাকে আবারও বালু পরিবর্তন করার কথা বলা হবে। গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম যোগসাজসের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারকে নিম্নমানের বালু ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে।
Leave a Reply