শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের নামে মামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের নামে মামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

শেখ মো: আতিকুর রহমান আতিক ,গাইবান্ধা :

সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রেসক্লাব গাইবান্ধার যুগ্ম সম্পাদক ও নিউজবাংলার গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি পিয়ারুল ইসলামের নামে পিবিআই কর্তৃক মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ায় যে মামলা হয়েছে সেই মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

প্রেসক্লাব গাইবান্ধার উদ্যোগে ১৯ ডিসেম্বর রবিবার দুপুরে গাইবান্ধা নাট্যসংস্থার সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলার ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব গাইবান্ধার সভাপতি খালেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাভেদ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক পিয়ারুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সহ-দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সালাম আশেকি, প্রচার সম্পাদক জান্নাতুন নাঈম, পলাশবাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রতন, ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জামিরুল ইসলাম সম্রাট, কার্যকারী সদস্য শাজাহান সিরাজসহ নিহত ছকুর পরিবারের সদস্যরা।

বক্তারা বলেন, ‘গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ছকু মিয়া নামে এক রিকশাচালককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন ও পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যুর ঘটনায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় পিয়ারুল ইসলামকে নারী নির্যাতনের একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তারা বলেন, ‘আদালতে মামলার আবেদন জমা পড়ার পর বিচারক মামলাটির তদন্ত দেন গাইবান্ধা পিবিআই’কে। কিন্তু পিবিআই এর তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই দিপঙ্কর সরকার বাদিপক্ষে প্রভাবিত হয়ে ও আসামিপক্ষের কাছে ঘুষ না পেয়ে পিয়ারুলসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। তার এই মিথ্যা প্রতিবেদনের কারণে মামলার আসামি হয়েছে সাংবাদিক পিয়ারুল ইসলাম ।’

অবিলম্বে এই মামলাটি পুণরায় তদন্ত, বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তারা তদন্তকারি কর্মকর্তা দিপঙ্কর সরকারের শাস্তির দাবিও জানান।

এ ঘটনায় গত ১২ ডিসেম্বর প্রেসক্লাব গাইবান্ধার পক্ষ থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এসপি বরাবর একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে গত জুনে ছকু মিয়া নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয় নির্যাতনে। নিহতের ছেলে মোজাম্মেল হক মামলায় অভিযোগ করেন, স্থানীয় দাদন কারবারির ছয় ভাই ১৫ মে হাত-পা বেঁধে রাতভর পিটিয়ে তার বাবার হাত-পা ও দাঁত ভেঙে দেয়। অভিযোগে বলা হয়, ওই দাদন কারবারিদের সঙ্গে ছকু মিয়ার দাদনের টাকা নিয়ে পুরোনো বিরোধ ছিল।
ছকুর ছেলে মোজাম্মেলের সঙ্গে দাদন কারবারি মন্টু মিয়ার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক জানতে পেরে মন্টু তার ভাইদের নিয়ে ছকুকে রাতভর নির্যাতন করে। আলমগীর, আংগুর, রনজু, মনজু, সনজু ও মন্টু মিয়া রাতভর ছকুকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে কোনো চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে পরদিন ১৬ মে দিনভর তাকে জিম্মি করে রাখে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এক সপ্তাহ পর দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে ‘ছেলের প্রেমের খেসারত’ হিসেবে ছকু মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই টাকার জন্য ছকুর একমাত্র ঘরটিও ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন দাদন কারবারিরা। এরপর তাকে ভিটেছাড়া করা হয়। পরে ছকু মিয়া আশ্রয় নেন গাজীপুরের শ্রীপুরে ছেলের বাসায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জুন মৃত্যু হয় তার।
পরে ছকুর ছেলে মোজাম্মেল বাবা হত্যার মামলা করতে চাইলে থানায় তার মামলা নেয়া হয়নি। উল্টো মোজাম্মেল ও তার বোনকে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করে ওই ছয় ভাই।

পরবর্তী সময়ে গত ১৬ জুন ছকু মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে (সাদুল্লাপুর) মামলা করেন। মামলায় ছয় ভাই আলমগীর, আংগুর, রনজু, মনজু, সনজু, মন্টুসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। পরে আদালতের বিচারক শবনম মুস্তারী সাদুল্লাপুর থানাকে মামলা রেকর্ডভুক্ত করে ২৩ জুনের মধ্যে মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

পুরো ঘটনায় শুরু থেকে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আদালতের এই নির্দেশনা পাওয়ার পরই ছকু হত্যার প্রধান আসামি মন্টু মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে তাদের মেয়েকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে গাইবান্ধা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে ছকুর ছেলে মোজাম্মেল, নিউজবাংলার গাইবান্ধা প্রতিনিধিসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় সাক্ষী হন ছকু হত্যা মামলার নয় আসামি।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার আসামি মোজাম্মেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠান। সে সময় মোজাম্মেলের সঙ্গে গ্রামের আরও কয়েক ব্যক্তিও পিবিআই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সে সময় তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কাছে ঘুষ চেয়েছিলেন এমন অভিযোগ করছেন তারা, কিন্তু ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আসামিপক্ষ কিংবা গ্রামবাসীর কোনো মতামত নেননি ওই তদন্ত কর্মকর্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com