সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় শেষ হলো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সাধু যোষেবের তীর্থ উৎসব। ‘সাধু যোষেফর বর্ষ সমাপ্তি ’ এ স্লোগানে সাতক্ষীরা শহরতলীর পারকুখরালী সানতলা ক্যাথলিক গীর্জায় খ্রিস্ট ধর্মের সেন্ট যোষেফ এর বর্ষ সমাপ্তিকে কেন্দ্র করে এই তীর্থ অনুষ্ঠিত হয়।
করোনা মহামারির কারণে তীর্থকে ৫ দিনে ভাগ করা হয়। এতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৩ হাজার খ্রিস্টধর্মানুসারীদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গন। ।
রবিবার (১৪ নভেম্বর) সমাপনী দিনে পৌরহিত্য করেন খুলনা ধর্মপ্রদেশের বিশপ জেমস রমেন বৈরাগী। শতদল দাসের সভাপতিত্বে ও সুরঞ্জন মন্ডলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কারিতাস খুলনা অঞ্চলের পরিচালক দাউদ জীবন দাস, ফাদার লরেন্স,ফাদার রিপন,ফাদার বিপ্লব প্রমুখ।
শহরতলীর গোপীনাথপুর থেকে যাওয়া ক্যাথলিকভক্ত রেনু হালদার জানান, পাপ মোচনসহ নানা সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে সাধু যোষেবের কাছে ছুটে এসেছি। আরেক ভক্ত সুভা হালদার বলেন, আমরা যেন ভালোভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারি, আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে পারি, এ জন্য সাধু যোষেবের সাহায্যের জন্য এসেছি।
সাতক্ষীরা ক্যাথলিক চার্চের পালক পুরোহিত লরেন্স ভালোত্তি বলেন ” খ্রিস্ট ধর্মের অন্যতম এই মহামানবের বর্ষ সমাপ্তিতে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আমাদের সকলের প্রত্যাশা।সাধু যোসেফ যেমন শান্তির বার্তা ছড়িয়ে গেছেন,তেমন আমাদেরকে ও শান্তি বির্নিমানে একসাথে কাজ করতে হবে।
খুলনা ধর্মপ্রদেশের বিশপ জেমস রমেন বৈরাগী বলেন, এবারের তীর্থযাত্রায় বিশ্বমানবতার কল্যাণে বিশেষ করে বাংলাদেশের সকল সমস্যার সমাধানের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ দিন দিন তীর্থ উৎসবটি এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে তীর্থ উৎসবে আগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
Leave a Reply