শেখ মো: আতিকুর রহমান আতিক, গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুক কেওড়াবাড়ী গ্রামে অচেনা প্রাণীর আক্রমনে একজনের মৃত্যু ও কয়েকজন আহত এমন সংবাদ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হওয়ার পর উক্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ দল ও রাজশাহী বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
গত ২ দিন ধরে তারা আক্রান্ত বিভিন্ন লোকদের সাথে কথা বলেন।
তারা ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশের নমুনা সংগ্রহ করেন। বন্য প্রাণীর পায়ের ছাপ সংগ্রহ এবং নাইট ভিশন ক্যামেরা ব্যবহার এবং বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই করে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান কামরুদ্দীন রাশেদ জানান, উক্ত এলাকাটিতে কোন অদ্ভুত প্রাণী বা নরখাদক প্রানীর অস্তিত্ত নেই।
যা প্রচার করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।
মুলত এলাকাটিতে তারা ৪ ধরনের প্রানীর পায়ের ছাপ পান। যেমন, মেছো বিড়াল, বন বিড়াল, শিয়াল ও বেজী।
তবে আক্রান্ত লোকদের তথ্য ও জখম চিহ্ন পর্যালোচনা করে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান কামরুদ্দীন রাশেদ বলেন , শিয়াল দ্বারা এলাকার লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে।
এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, এ সময়ে শিয়াল এর ব্রিডিং সময়। ব্রিডিং সিজনে শিয়াল হিংস্র হয়।
এর ফলে মানুষ বা গবাদি পশুকে তারা আক্রমণ করতে পারে।
তিনি আরও জানান, র্যাবিস আক্রান্ত কোন শিয়াল অনেক সময়ে পাগল হয়ে থাকে। র্যাবিস আক্রান্ত শিয়াল মানুষকে আক্রমন করে জখম করতে পারে।
বন্য প্রানী বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য মাহবুব –এ- খুদা জুয়েল বলেন, আমরা মুলত অদ্ভুত ও নরখাদক প্রাণী আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাটিতে সার্ভে করতে আসি।
২ দিন কাজ করে এটা নিশ্চিত যে কোন অদ্ভুত প্রাণী বলে এই এলাকায় কিছু নেই। মুলত শিয়াল মানুষকে আক্রমন করছে। তিনি আরো বলেন, শিয়াল মানুষকে আক্রমন করছে এমন গুজব বা প্যানিক সৃষ্টি করে যেন অযথা বন্য শিয়াল বা বন বিড়াল হত্যা না করা হয়।এ ধরনের দুষ্প্রাপ্য প্রানী হত্যাকারীকে ১০ বছর সাজা দেয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এতে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি মানুষকে কয়েকটা দিন সাবধানে ও সতর্কতার সাথে চলার পরামর্শ প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষন কর্মকর্তা মোঃ রাহাত হোসেন ও পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর কবির, হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো: রাকিব হোসেন।
Leave a Reply