মুতাছিন বিল্লাহঃ
জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মানুষের মাঝে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকার প্রতিটি অলিগলি, দোকানের সামনে,ফাকা জায়গায়, বাড়ির সম্মুখে ছেয়ে গেছে সাদা কালো পোস্টারে। সেই সাথে চলছে প্রতিটি প্রার্থীদের ভোট প্রার্থনা ও নিয়মিত উঠান বৈঠক। ইউনিয়নের প্রতিটি জায়গায় সাদা-কালো পোস্টারে ছেয়ে গেছে। মনে হয় সীমান্ত ইউনিয়ন নতুন করে পাঁচ বছর পর আবার সেজেছে। নির্বাচনের কারণে ইউনিয়নে সৌন্দর্য অনেকটাই যেন বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের বাড়ি, রাস্তা, দোকানের সামনে যেমন প্রার্থীদের হাজারো পোষ্টার সাটানো আছে তেমনি পিচ মোড়, গোয়ালপাড়া বাজার,মেদিনীপুর হরিহর নগর, যাদবপুর,গঙ্গাদাশ পুর রাস্তার পাশে, বেনীপুর বাজার,কয়া,ধান্যখোলা,হরিপুর, হাবিবপুর,শাখারিয়া,গয়েশপুর,নতুন পাড়া,সদরপাড়া এলাকায় শুধু পোস্টার আর পোস্টার।
এছাড়াও পোস্টারগুলো এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ ও বিভিন্ন দোকানে রশি দিয়ে সাটানো হয়েছে। আবার ছোট ছোট হ্যান্ড বিলি করে রাস্তায় রাস্তায়, দোকানে মানুষের হাতে দিয়ে প্রার্থী নিজ বা তাদের সমর্থক লোকজন ভোট প্রার্থনা করছে।
প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মঙ্গলবার। প্রতীক পাওয়ার পরই প্রার্থীরা পর দিন বুধবার সকাল থেকেই পোস্টার লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কার আগে কে জায়গায় দখল করে পোস্টারে লাগাতে পারে।
গোয়াল পাড়া, নতুন পাড়া, বেনীপুর বাজারসহ প্রায় গ্রামে দেখা যায়, চেয়ারম্যান ,মেম্বার ও মহিলা মেম্বার প্রার্থীরা ভোটার ও সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে বিভিন্ন অলি-গলিতে পোস্টার লাগিয়েছেন। চালিয়ে যাচ্ছে উঠান বৈঠক ও ভোট প্রার্থনা।সেই সাথে দিচ্ছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। সাবেক, বর্তমান ও নতুন প্রার্থীরা সকলেই উন্নয়নের অঙ্গীকার করে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেকেই আবার বয়স্কদের পায়ে ধরে সালাম করছে।
যাদবপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বলেন, গত চার/পাঁচ দিন আগে সকালে এসে দেখি রশিতে পোস্টার ঝুলছে। এছাড়াও প্রতিটি দোকানে এসে নির্বাচনী প্রার্থী ও সর্মথকরা পোস্টার দিয়ে যাচ্ছেন। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বিরাজ করছে ভোটের আমেজ।শুধু ব্যবসায়ীই নয়, প্রতিটি সাধারণ জনগণের মাঝে এবার ভোটের জোয়ার এসেছে।
তিনি আরো বলেন, চায়ের দোকানে বসলেই এখন একটি আলাপ, তা শুধু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। মানুষের মাঝেও নেমেছে খুশির আমেজ।
সদরপাড়ার বাসিন্দা জিনারুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের পোস্টার দড়ি দিয়ে বিভিন্ন বৈদ্যুত্যিক খুঁটি, গাছ ও দোকানে মধ্যে লাগানো হয়েছে। সেই সাথে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা বাসায় বাসায় পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করছে, সেই সাথে চলছে ভোট প্রার্থনা। ঘন ঘন প্রার্থীদের নামে স্লোগান ও প্রতীক নিয়ে মিছিল বের হচ্ছে।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সমর্থিত চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের পোস্টার লক্ষণীয়। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থীর পোস্টার এখনো খুব একটা চোখে পড়েনি।
এ ইউনিয়ন নির্বাচনে ২ জন চেয়ারম্যান, ১৮জন সংরক্ষিত মহিলা ও ৩২ জন সাধারণ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ইউনিয়ন মোট ভোটার ২৩ হাজার ৫০৪ জন। চেয়ারম্যান , মেম্বার ও মহিলা মেম্বার সকলেই ভোট প্রার্থনায় গ্রাম গ্রামে কাজ করছে।
Leave a Reply