শরিফা বেগম শিউলী
রংপুর প্রতিনিধি
হামরা ত্রাণ চাইনা। হামাক পাকাপুক্ত বাঁধ দেন। বন্যার পানিত বাড়িঘর যেন না ডুবি নায়। জমিজমা যেন ভাঙ্গনে চলি না যায়। যাতে হামরা সন্তানদের নিয়া নিরাপদে থাইকপার পাই। আবাদ-সুবাদ যেন নষ্ট না হয়। বন্যার পানিত মোর ঘরে অনেক কষ্টে সঞ্চিত প্রায় দেড় লাখ টাকা, একটা মোটর সাইকেল, ফ্রিজ, খাটসহ সউগ তিস্তা নিয়া গেইচে। মোর মতো তিস্তা পাড়ের আরও অনেকের বাড়িসহ সবকিছু নদীর পেটোত গেইছে। মঙ্গলবার ২৫/১০/২১ইং গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের চর ইচলে এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে আকস্মিক বন্যায় তিস্তার তীব্র স্রোতে বাড়িঘর হারানো নাজমুল হোসেনের (৫৫) সাথে কথা হলে কান্নাজরিত কন্ঠে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কথা হয় আবুল কাশেম, মিঠুল, ফজলু হক, মালেক মিয়া, মতিন মিয়া, পেয়ারুল, সুজা মিয়াসহ বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকের সাথে। তারা জানান, অনেক কষ্টে গোছানো সংসার হামার তছনছ করে দেচে তিস্তা। যে জমি কষ্ট করে কিনেচি সেই জমির দলিলও হারায় গেছে। বন্যার পানিত হামার খালি বাড়িঘরেই তলায় নাই, হামার আলু, ধান, শাক-সবজী খেত সউগ শেষ হয়য়া গেইচে। মেলা টাকা হামার ক্ষতি হইচে। তারা আরও বলেন, আইজ পাকাপুক্ত বাঁধ থাকলে হামাক গুলাক পতোত বইসপের নাগিলনা হয়। আইজ হামার থাইকপার জাগা নাই, পেটোত ভাত নাই। সবকিছু হারায়া কতগুলা মানুষ এটে থাকি কানতে কানতে চলি গেলো। হামরা বন্যার পানিত হাবুডুবু খাই তকনেসিন সরকার আইসে, মন্ত্রী আইনে। অল্পে একনা ত্রাণ দিয়া, অনেক মিষ্টি মিষ্টি কতা কয়া যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিচুই করে না। তাও ভালো হামার চেয়ারম্যান সরকারের কাচোত হামার কতা সউগসময় কয়। কোমর পানিত নামিয়া হামার চেয়ারম্যান হামারগুলার খোঁজ নেয়। সাংবাদিকরা টিপিতো হামার দুঃখের কতা কয়। কিন্তু বন্যাত হামার সউগ কিচু শেষ হয়া যাবার পর সরকার অল্পেএকনা ত্রাণ দেয়, তা নিয়া কি করি হামরা। হামাক ত্রাণ না নিয়া সরকার যদি একনা পাকাপুক্ত বাঁধ তৈরি করি দেইল হয়, তাহইলে হামরা হাজার হাজার মানুষ সরকারের জন্য দোয়া করনো হয়। সূত্র মতে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে আকস্মিক বন্যার পানির কমে গেলেও দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। ইতোমধ্যে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য ২ হাজার পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। বন্যায় শুধুমাত্র লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নেরই ৭টি ওয়ার্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
Leave a Reply