বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দু’টি কলেজের বিরুদ্ধে অনার্স ৩য় বর্ষের ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠান দু’টি হলো পৌরসদরে অবস্থিত কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ এবং সাতৈর ইউনিয়নে অবস্থিত কাদিরদী ডিগ্রি কলেজ।
কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের অভিভাবক মো. সৈয়দ আলীর লিখিত অভিযোগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে কলেজের পাঠদান এবং অভ্যন্তরীন পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও এসাইনমেন্ট বাবদ কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। ওই কলেজের স্নাতক (সম্মান) ৩য় বর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্রী এবং অভিযোগকারীর মেয়ে সাদিয়া ইসলামের নিকট থেকে রসিদের মাধ্যমে চলতি বছরের ২ মার্চ অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফি দেখিয়ে এক হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে ওই সময়ে কোন পরীক্ষা নেয়া হয়নি। মূলত এসাইনমেন্ট বাবদ টাকা আদায় করা হয়েছে। সাদিয়ার মতো কলেজের সব শিক্ষার্থীর নিকট থেকেই এসাইনমেন্ট বাবদ এভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে। ওই সময়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দের নিকট এ ব্যাপারে কলেজের ছাত্রীরা একটি লিখিত অভিযোগ করেছিল। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কলেজের অধ্যক্ষকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কলেজের অফিস সহকারী মো. কামরুল ইসলাম ও কর্তৃপক্ষের অর্থলিপ্সু মনোভাবের কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনার্স ৩য় বর্ষের পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি ১৪শ টাকা হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ ৭শ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। এছাড়া উন্নয়ন ফি, রক্ষণাবেক্ষণ ফি, বিবিধ ফি বাবদ ৯শ টাকা আদায় করেছে। এমনকি মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকেও বিজ্ঞানাগার/ল্যাব ফি বাবদ ৩শ টাকা করে আদায় করছে।
অভিযোগকারী মো. সৈয়দ আলী বলেন, আমি কলেজের অফিস সহকারী মো. কামরুল ইসলামের নিকট অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি (কামরুল ইসলাম) হুমকি দিয়ে বলেন, মেয়েকে পড়ালেখা শেখাতে হলে টাকা দিতে হবে। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আমার মেয়েকে লাল টিসি দিয়ে কলেজ থেকে চিরতরে বের করে দেয়া হবে। এছাড়া কাদিরদী ডিগ্রি কলেজে ৩য় বর্ষের ফরম পূরণে শিক্ষার্থী প্রতি ৩ হাজার ২০০ টাকা করে বিনা রশিদে আদায় করছে।
শিক্ষার্থীকে লাল টিসি দিয়ে বের করে দেয়ার বিষয়ে অফিস সহকারী মো. কামরুল ইসলামের মোবাইল (০১৭৬১-৫৫৬৬৩০) নম্বরে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম বলেন, ইউএনও স্যার আমাকে মৌখিক বিষয়টি জানিয়েছে। চিঠি আকারে পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবো।
কাদিরদী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুজ্জামান মিঞা বলেন, নির্ধারিত ফি ব্যতিত অতিরিক্ত কোনো অর্থ কলেজ কর্তৃপক্ষ আদায় করে না।
কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ধার্যকৃত ফি নেয়া হয়েছে। অন্যান্য যে টাকা নেয়া হয়েছে সেটা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply