সরোয়ার জাহান সোহাগ
ডিমলা সংবাদদাতা।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। দুপুর ২টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সে:মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৮ হাজার মানুষ।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম জানান, উজানের পাহাড়ী ঢলে মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। বুধবার ভোর ৬টা থেকে তিস্তার পানি ৫৩ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
পরবর্তীতে দুপুর ২টায় পানি বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৭০ সেঃ মিটারে। তিস্তার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষজনের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।
পানির প্রচন্ড চাপে সকাল ৯টার দিকে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাঁধের ৭০ সেঃ মিটার নদী গর্ভে ধসে পড়ে।
ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এখনও এ এলাকার বাড়ী-ঘর প্রায় বুক পরিমাণ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন তার ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিতে বন্দী হয়ে আছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের স্বেচ্ছায় নির্মিত বাঁধ ও স্বপন বাঁধ পানির প্রচন্ড চাপে ধসে গেছে। অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, তার এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক বাড়ী-ঘর এখনও পানিতে তলিয়ে আছে। এসব বাড়িঘরের মানুষজনকে এখনও সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়াও একই উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপা খড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ১৫টি চরের বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক সহস্রাধিক মানুষ এখনও পানি বন্দী হয়ে আছে।
ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেসবাউল হক জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে ঠিক কতগুলি পরিবার এখনও পানি বন্দী রয়েছে তার পরিসংক্ষাণ এখই দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসফাউদ দৌলা জানান, তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় ব্যারেজের ৪৪ টি গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও মানুষ জনকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের দল আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
Leave a Reply