শেখ মো: আতিকুর রহমান আতিক,গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের তুলে নেয়া সেই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা অবশেষে ফেরত দিলেন ৩নং দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন।
এক শোকজ নোটিশের পর উন্নয়ন প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদের (১%) ব্যাংক হিসাব নম্বরে এই টাকা জমা করেন চেয়ারম্যান। এছাড়া আয়কর বাবদ ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকাও জমা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের অভিযুক্ত এই চেয়ারম্যান তার কারণ দর্শানোর জবাবে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনাও করেন বলেও জানা গেছে।
১৮ অক্টোবর সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রোকসানা বেগম।
মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘শোকজের লিখিত জবাব গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) তার দপ্তরে জমা পড়েছে। শোকজ জবাব তিনি গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগমের দপ্তরে পাঠিয়েছেন। এছাড়া উত্তোলন করা সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ও আয় কর বাবদ আড়াই লাখ টাকা জমার কথাও জানান তিনি।’
শোকজের নোটিশ পাওয়ার পর গত ৩ অক্টোবর ভ্যাট-আয়কর বাবদ ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৩ টাকা ও ৬ অক্টোবর সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসনের ভূমি হস্তান্তর বরাদ্দের তুলে নেওয়া সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পরিষদের ব্যাংক হিসেবে জমা করা হয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে পরিষদের সচিব মো. নুরজামান মিয়া মুঠোফোনে বলেন,‘সোনালী ব্যাংক সাদুল্লাপুর শাখার হিসাব নম্বরে এসব টাকা জমার রশিদ এবং ট্রেজারি চালানের কপি ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। লিখিত জবাবে চেয়ারম্যান অভিযোগের ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনার কথা উল্লেখ করেন।
সচিব আরও জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় টিউবয়েল, স্প্রে মেশিন বিতরণ ও কালভার্টসহ উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কাজগুলোও হচ্ছে ভূমি হস্তান্তর কর (১%) বরাদ্দের টাকায়। এ কারণে জমা দেওয়ার পর ওই টাকা আবারও তুলে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগম মুঠোফোনে জানান, চেয়ারম্যান স্বাধীনের লিখিত জবাব ইউএনও’র মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। তার জবাব পর্যালোচনা করাসহ সরেজমিনে অভিযোগগুলো তদন্ত করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এর আগে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে নথিপত্র যাচাই ও ব্যাংক হিসেবে প্রকল্প গ্রহণ ছাড়াই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন এবং ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের আয়কর বাবদ ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জমা না দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেয় গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগম।
Leave a Reply