রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
আজ মহাঅষ্টমী,সুনামগঞ্জে আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

আজ মহাঅষ্টমী,সুনামগঞ্জে আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব


মোঃ আতিকুর রহমান, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-

গতকাল মঙ্গলবার মহাসপ্তমী বিহিত পূজা থেকেই মূলতঃ সাড়ম্বরে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো দুর্গতি নাশিনী দেবী দুর্গার শ্রীচরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করছেন ভক্তরা। সেই সাথে চলবে বিশ্বের সকল মানুষের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সকল বৈশ্বিক মহামারি থেকে মুক্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা। একই সাথে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হবে প্রতিটি মন্দিরে মন্দিরে।
জেলার কালিবাড়ি মন্দির, নতুন পাড়া, বাধন পাড়া, ষোলঘড় রামকৃষ্ম মিশন, ইব্রাহীমপুরসহ জেলা শহরের পূজামন্ডপগুলোতে ভক্তদের ঢল নেমেছে।
দুর্গতি নাশিনী দেবী দুর্গার আগমনে ভক্ত পুণ্যার্থীরা আজ বুধবার পূজামন্ডপে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমবেত হন আনন্দ ও শ্রদ্ধাকূল চিত্তে।পূজা শেষে সকলে মিলে জগজ্জননী দুর্গার চরণে নিবেদন করেন পুষ্পাঞ্জলি। সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মহামারি করোনা থেকে মুক্তি কামনায় সমাগত পুণ্যার্থীদের কন্ঠে সমস্বরে উচ্চারিত হয় শান্তির মন্ত্র। নানা বয়স ও শ্রেণী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিটি মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে মহাতীর্থে।
আজ বুধবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী। আজ কুমারী পূজাও। কুমারী পূজায় একজন বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী জ্ঞানে তাকে পূজা করেন। আজ সকালে অষ্টমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। হবে সন্ধিপূজাও। এদিন বলিদানও হয়। সন্ধিপূজায় দেবী দুর্গাকে চন্ডীরূপে বা কালীরূপে পূজা করা হয়। মহাঅষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও মহানবমীর প্রথম ২৪ মিনিটে সন্ধি পূজার সময় শ্রীরামচন্দ্র ও লঙ্কারাজ রাবণ এর মধ্যে যুদ্ধ হয়। এ সময়েই লঙ্কারাজ রাবণ নিহত হয়।
হিন্দু ধর্ম মতে, পরমা প্রকৃতি স্বরূপা মহাদেবী, মহাদেবের পতœী। মার্কেন্ডেয় পুরাণ মতে, দেবী মহামায়া, পরমবিদ্যা, নিত্যস্বরূপা, যোগনিদ্রা। দেবীদুর্গা জন্ম-মৃত্যু রহিতা মহাশক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। মহাশক্তি বলে দুর্গাকে নিদ্রা, ক্ষুধা, লজ্জা, তুষ্টি, আগুনের দাহিকা শক্তি, সূর্যের তেজ, জলের শীতলতা, ব্রাহ্মণের ব্রাহ্মণ্যশক্তি, ক্ষত্রিয়ের ক্ষত্রিয় শক্তি, তপস্বীর তপস্যাশক্তি, ক্ষমাবানের ক্ষমা শক্তি। পৃথিবী ধারণ ও শস্য উৎপাদন ক্ষমতা প্রভৃতি বলে স্তব করা হয়ে থাকে। দেবী দুর্গা তার দশ হাতে দশ রকম অস্ত্র, এক পা তার বাহন সিংহের পিঠে আর এক পা অসুরের কাঁধে। তাকে ঘিরে থাকেন লক্ষী, সরস্বতী, গণেশ আর কার্তিক।
অশুভ শক্তি লঙ্কারাজ রাবণ সীতাকে হরণ করে লংকাতে নিয়ে যান। সীতাকে উদ্ধারের জন্য শ্রীরামচন্দ্র অশুভ শক্তি রাবণকে পরাজিত করতে এই আরাধনা করেছিলেন শরৎকালে অকালে। শরৎকালে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। রাবণ বধের জন্য শ্রীরামচন্দ্র অসময়ে এই শরৎকালে মা দুর্গাকে জাগিয়ে তুলতে আরাধনা করেছিলেন। তাই, অকালের এ পূজা অকাল বোধন নামে পরিচিত।
শরৎকালে শ্রীরামচন্দ্র দেবী দুর্গার কাছে একশ’ আটটি নীল পদ্ম দিয়ে মায়ের পূজা করেন। মাতৃভক্ত শ্রীরামচন্দ্র পূজায় বসে অঞ্জলি দেয়ার সময় দেখলেন একটা নীল পদ্ম কম রয়েছে, তখন ধনুক দিয়ে নীজ চোখ উঠিয়ে নীল পদ্মের সংখ্যা পূরণ করতে উদ্যত হলে দেবী দুর্গা এসে তাকে বাধা দেন এবং আশীর্বাদ করেন।
মা দুর্গার কাঠামোতে জগজ্জননী দুর্গা ছাড়াও লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, সিংহ ও অসুরের মূর্তি থাকে। এছাড়া তাদের বাহন পেঁচা, হংস, ময়ুর, ইদুঁর ও সবার উপরে শিবের মূর্তি বিদ্যমান।
মা দুর্গার দশটি হাত ও দশটি প্রহরণ অপরিমেয় বলবীর্যের। লক্ষী ধনের, সরস্বতী জ্ঞানের, গণেশ কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রতীক। সিংহ বশংবদ ভক্তের এবং অসুর সমস্ত অশুভ ও দুর্গতির প্রতীক। দেব সেনাপতি কার্তিক তারকাসুরকে বধ করে স্বর্গভ্রষ্ট দেবতাদের পুনরায় স্বর্গে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। অতন্দ্র প্রহরায় রক্ষা করেছিলেন স্বর্গের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সুনামগঞ্জ জেলার পূজামন্ডপগুলোতে আনন্দঘন পরিবেশে দূর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিটি পূজা মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রচুর পরিমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েম করা হয়েছে। আমরা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন জেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করছি। পূজা মন্ডপগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com