খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় এবার ৫৫টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে নানা কর্ম পরিকল্পনা। অধিকাংশ মণ্ডপে মৃশিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় দেবীদুর্গার বিমূর্ত অবয়ব ফুটে ওঠেছে। এরই মধ্যে রঙতুলির কাজ শুরু হয়েছে।
পূজাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পাঁচ মাইল দূর্গা বাড়ী মন্দিরের কমিটির সদস্য ডেনি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, আমরা দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পূজা উদযাপন করে আসছি। কিন্তু গত বছর করোনা মহামারি কারণে পূজায় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র করতে হয়েছিল। এবছর করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় পুরো জাঁকজমকপূর্ণ করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশাসনের সহযোগিতা আশা করেন তিনি।
আরেক সদস্য ও স্থানীয় কার্বারী ননে রঞ্জন ত্রিপুরা জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও আমরা মায়ের পূজা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা যেন করোনা থেকে মুক্ত হয়।
এবার বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার তালিকা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি পূজা হবে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায়। একটি ঘটপূজাসহ মোট পূজা হবে ২০টি। পানছড়ি উপজেলায় মোট পূজা হবে ১০টি। দীঘিনালা উপজেলায় পূজা মণ্ডপ হবে ৭টি।
এছাড়াও মাটিরাঙ্গায় ৬টি, গুইমারায় ৪টি, মানিকছড়িতে ৩টি, মহালছড়িতে ২টি, রামগড়ে ২টি, ও লক্ষীছড়িতে ১টি পূজাসহ মোট ৫৫টির মধ্যে ৫৪টি প্রতিমা পূজা, ৩টি স্থায়ী প্রতিমা পূজা, ১টি ঘট পূজা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক তরুণ কুমার ভট্টাচার্য।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজাকে ঘিরে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কাজ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। প্রতিটি মণ্ডপে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পুলিশ ও আনসারসহ পুলিশের বিশেষ টিম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
Leave a Reply