বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
প্রচারেই প্রসার, প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন দিন, যোগাযোগঃ 01764934214 ঠিকানাঃ ৮৯, কাকরাইল, গ্রীন সিটি এজ, ১১ তলা, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল:01764934214, 01716035712 ইমেইল:newsroom@bangladeshbulletin.com
শিরোনাম :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর আজ সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহিংসতা ও গুজব বরদাশত করা হবে না: জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন: ২৯৯ আসনে ভোট, সব প্রস্তুতি শেষ ইসির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও জনবান্ধব রাজশাহী মহানগর গড়ে তোলা হবে-মিনু খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ডেসকো জিয়া পরিষদের বিশেষ দোয়া মাহফিল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে  আলোকচিত্র প্রদর্শনী “ আনটোল্ড” অনুষ্ঠিত আনিনুল হক’কে ঢাকা-১৬ আসন উপহারের ঘোষনা বুলবুল হক মল্লিকে’র বোয়ালমারীতে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের আশঙ্কা, এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা
মাধবপুরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা।

মাধবপুরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকরা।

মোঃ নাহিদ মিয়া,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১ টি ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ে চলছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ। মহামারী করোনার মহা বিপর্যয়ের মধ্যে এবার উপজেলার লম্বা সময়ের স্থানীয় বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সরকারি হিসাবেই বলা হচ্ছে। বন্যা দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মাঝে বন্যায় তারা চরম অসহায় অবস্থায় আছেন। এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই জমি চাষ করে লাউ, করলা, বেগুন, কায়তাসহ বিভিন্ন শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাধবপুরে সবজি কৃষকরা।

জমি চাষাবাদ শেষ হতে না হতেই শুরু হয় আবার ঝড়-বৃষ্টি। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে আগাম সবজি চাষে অনেক বেশী খরচ হচ্ছে। এরই মধ্যে কৃষকরা সবজি লাগানোর জন্য একের পর এক জমি চাষ করে যাচ্ছেন। একটু খড়া হলেই শুরু হয় জমি চাষের প্রক্রিয়া। বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে এভাবেই সবজি চাষ করার জন্য জমিকে উপযোগী করে তৈরি করছেন কৃষকরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক মাসের মধ্যেই ক্ষেত থেকে উঠবে আগাম শীতকালীন শাকসবজি। বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমনটাই প্রত্যাশা চাষি ও কৃষি বিভাগের।

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে এবারের সবজি চাষাবাদ করতে খরচ বেশি হচ্ছে বলে জানান সবজি চাষিরা। মাধবপুর উপজেলার পূর্ব মাধবপুর গ্রামের সবজি চাষি খোকন মিয়া জানান, এবারের ঝড়-বৃষ্টি বেশি হওয়ার কারণে জমিতে বেশি হাল চাষ করতে হচ্ছে। একটু খরা হলে শুরু হয় চাষাবাদ।
আবার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি। আবার খরা হলে নতুন করে চাষ করতে হয়। এভাবেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে তৈরি করতে হচ্ছে সবজি চাষের জমি দুর্যোগ যখন আসে চতুর্দিক থেকেই আসে। একদিকে মহামারি করোনা ভাইরাস অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আগাম সবজি চাষ করতে পারছিনা আমরা।

মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে জীবনকে বাঁচাতে যেভাবে যুদ্ধ করতে হচ্ছে আমাদের। ঠিক সেভাবেই আগাম সবজি চাষ করার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ঝড়-বৃষ্টি সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে। করোনার কারণে অনেক জেলার বেকার যুবকরা চাকরির দিকে না ঝুঁকে নেমে পড়েছেন সবজি চাষে। আবহাওয়া ভালো থাক আর না থাক তারপরও আগাম সবজি চাষ করতে পিছপা হননি সবজি চাষিরা। বর্তমানে বাজারে কম পাওয়া গেলেও মাসখানেকের মধ্যে সবজিতে ভরপুর হবে মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারগুলো। দাম কিছুটা বেশি হলেও ভোক্তারা স্বাদ নেবেন শীতকালীন আগাম শাকসবজির।

তাই নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত সবজি খেতে বাঁশ কেটে মাচা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। উপজেলার বারাচান্দুরা গ্রামের সবজি চাষি ওয়াহাব মিয়া বলেন, ঝড় বৃষ্টির কারণে অনেকে সবজি চাষাবাদ কমিয়ে দিয়েছেন। গতবারে যে চাষি ১০ বিঘা সবজি চাষ করেছিলেন এবারে তা কমে এসেছে ছয় থেকে সাত বিঘায়। টানা বৃষ্টির কারণে অনেকেই জমিতে পানি থাকার কারণে সবজি চাষ করতে পারেন নাই। এবার সবজি চাষে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দাম ভাল পাবো বলে আশা করছি। কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, গতবারের তুলনায় এবারে জেলায় কম সবজি চাষাবাদ হচ্ছে।

টানা ঝড় বৃষ্টির কারণে এবার হয়েছে সাত হাজার হেক্টর জমিতে। এতে উৎপাদন হবে দুই লাখ মেট্রিক টন শাক-সবজি। মাধবপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মামুন হাসান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির বাম্পার ফলন হবে, এই এলাকার মাটি অনেক উর্বর তাই ফলন বেশি হয় এ অঞ্চলের, সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা সিলেট চট্টগ্রাম বরিশালসহ, দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা কারিগরি সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




©বাংলাদেশবুলেটিন২৪
Design & Developed BY ThemesBazar.Com