শেখ মো: আতিকুর রহমান আতিক, গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ঘাঘট নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। সড়িয়ে ফেলা হয়েছে বালু উত্তোলনের মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম।
৫ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে মেশিনসহ বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম সড়ানো হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় জানান, প্রশাসনের তৎপরতায় বালু উত্তোলন বন্ধ হয়েছে। নদী থেকে মেশিন ও পাইপ সড়িয়ে ফেলেছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া উপজেলার কোথাও ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন কিংবা ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির খবর পেলে তা বন্ধ করা হবে। সেই সঙ্গে মাটি ও বালু পরিবহণে অবৈধ ট্রাক্টর ও মাহিন্দ্র চলাচল বন্ধসহ চালক-মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
গত কয়েকদিন ধরে জামালপুর ও দামোদরপুর ইউনিয়নের ঘাঘট নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত ও ধাপেরহাট-সাদুল্লাপুর সড়ক সংস্কার কাজের জন্য ব্যবসায়ী হাসান আলী, ফুলমিয়া ও জুয়েল এই বালু উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগও করছেন এলাকাবাসী। ভেকু মেশিন দিয়ে তোলা এসব বালু ও মাটি রাতদিনে অবৈধ ট্রাক্টর, মহেন্দ্র ও ড্রাম ট্রাকে করে পাচার হচ্ছে বিভিন্নস্থানে। স্থানীয় কোট মিয়া, আমিনুল, চিনু ও শফিসহ কয়েকজনের সঙ্গে আতাঁত করে চিহ্নিত ট্রাক্টর ও মহেন্দ্র মালিকরা এসব মাটি-বালু পাচার করছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে ব্যবসায়ী হাসান আলীর দাবি, ঘাঘট নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারে ঠিকাদার তুহিনের চুক্তিতে ৫-৭ মাস থেকে পুরাণ লক্ষীপুর থেকে হামিন্দপুর পর্যন্ত বাঁধে বালু ফেলার কাজ করছেন। কাজ বন্ধ থাকায় কয়েকদিন ধরে জনৈক ব্যক্তির নিচু জায়গা (পুকুর) ভরাটে বালু তুলছেন তিনি।
এছাড়া ধাপেরহাট সড়ক সংস্কার কাজের জন্য বাড়ির সামনে নদীর পাশের নিজের জমিতে বালু তোলার কথা জানিয়েছন ফুল মিয়া ও জুয়েল। সরকারের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে বালু দেয়া দোষের কিছু নয় বলেও দাবি তাদের।
Leave a Reply