মনিরুজ্জামান,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) থেকেঃ
একাত্তরের রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা উসমান গনি (৭২)। যিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে অসীম সাহসিকতার সাথে দেশমাতৃকার টানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ১৯৭১ সালে। আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি অথের্র অভাবে দুচোখের আলো ফেরাতে ও নিজের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অথের্র অভাবে চিকিৎসা করতে না পারায় ক্রমেই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন জাতীর এই শ্রেষ্ঠ সন্তান।
জানাযায়, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নতুন হাট বাজারের পাশেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির বাড়ি। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা সন্মানী ভাতার বই নং-১৮ ক্রমিক নং- ৪০৫৬১ এফ এফ নং- ১০১/৩৩ লাল মুক্তিবার্তা নং-৩১৬০৪০৫০৭ ,জাতীয় তালিকা নং-৪৬৩। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ৬নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছেন।
উসমান গনি প্রায় ছয় বছর ধরে দুচোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত।তাঁর ভিটেবাড়ি ছাড়া নেই কোন জমি জমা। সংসার চালানোর একমাত্র আয়ের উৎস মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকা। তাঁর বাড়িতে বসবাস করার ঘরটিও জরাজীর্ণ। এই জরাজীর্ণ ঘরে জীবনে শেষ প্রান্তে এসে প্রায় চিকিৎসাহীন অবস্হায় এখন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। বয়সের ভারে তিনি চলাফেরা করছেন হুইল চেয়ারে। শুধু তাই নয় তাঁর স্ত্রী হামিদা বেগমের (৬০) এক চোখ অন্ধ অন্য চোখটিও দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়েছে। তিন ছেলে দিন মজুর। স্বামী পরিত্যক্ত এক মেয়েসহ তাঁর পরিবারটি এখন অসহায়। সম্মানী ভাতার টাকা দিয়ে ঔষধ কিনে খাওয়া আর সংসার চালানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সাহায্যের আশায় তার পরিবারের পক্ষ থেক আর্থিক সহায়তা চেয়ে গত ১৮/১১/২০১৯ তারিখে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সহ সংশিষ্ট দপ্তর গুলোতে আবেদন করেছেন। কিন্তুু আবেদন করার প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও কোন দপ্তর থেকে সাহায্যের আশ্বাস পায়নি তাঁর পরিবার।
অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা উসমান গনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন বিছানায় পড়ে আছি। যে পতাকার জন্য নয় মাস যুদ্ধ করেছি সেই লাল সবুজের উড়ন্ত পতাকা দেখতে না পেরে নিজেকে খুব হতভাগ্য মনে হচ্ছে।
চর-ভূরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান এ,টি,এম ফজলুল হক বলেন আমার পক্ষ থেকে সামান্য কিছু সাহায্য করেছি। বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির যে অবস্থা তাতে বড় ধরনের আর্থিক সাহায্য ছাড়া তার চিকিৎসা সম্ভব নয়।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা উসমান গনি দীর্ঘদিন থেকে অসুস্হ্য এ বিষয়ে আমি অবগত আছি। তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনসহ সকলকে পাশে দাড়ানোর জন্য বিনীত আহবান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Leave a Reply