গাজী তাহের লিটন, ভোলা:
উপকূলীয় জেলা ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে, ঝাঁকে ইলিশ।জেলেদের চোখেমুখে খুশির বর্ণচ্ছটা। বিভিন্ন সাইজের ইলিশে সয়লাব মৎস্য ঘাটগুলো।এরইমধ্যে আবারও আসছে মাছ ধরার ওপর অবরোধ।
আড়তদাররা শিপন সিকদার বলছেন, দীর্ঘদিন নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ার কারণে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছিল আড়তদার ও জেলেদের। এ কারণে নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পেলেও দাম একটু বেশি।
বৃহস্পতিবার (৩০সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভোলার সদরের ইলিশা, রাজাপুর, ধনিয়া তুলাতুলি, নাছির মাঝি, শিবপুরের ভোলার খাল, কাচিয়ার কাঠির মাথা এলাকার মেঘনা নদীতে জেলেরা আনন্দ নিয়ে দলবেঁধে মাছ শিকার করছেন। মাছ ধরা ঘাটে বিক্রি করা এ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা।
ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার জেলে বাবুল মাঝি বলেন, দীর্ঘদিন নদীতে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাইনি। আমাবস্যার সময় থেকে নদীতে আমরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পেতে শুরু করেছি। মাঝখানে দুদিন একটু কম মাছ পাই। কিন্তু বুধবার ভোর থেকে আবারও নদীতে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাছ পেতে শুরু করছি।তিনি আরও বলেন, নদীতে মাছ বেশি পাওয়ায় আমরা অনেক খুশি। এখন আমরা আগের মতো কোথায়ও বসে সময় নষ্ট করছি না। দল বেঁধে নদীতে মাছ শিকার করছি।
তুলাতুলি মৎস্য ঘাটের আড়তদার মো. জহিরউদ্দিন, প্রথমে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে আমরা আড়তদার ও জেলেরা অনেক সমস্যায় ছিলাম। দীর্ঘদিন পর এখন ভালো ইলিশ পাচ্ছেন জেলেরা। পাইকারি ও খুচরা বাজারে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দামও একটু বেশি। ১ কেজি ওজনের চারটি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। দেড় কেজি বা তারও বেশি চারটি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। আর ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির কম ওজনের চারটি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, নদীতে এখন ইলিশে সয়লাব। জেলেরা প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ পাওয়ায় তারা খুশি।
এদিকে ৪ অক্টোবর থেকে টানা ২২ দিন পর্যন্ত নদীতে ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।এতে জেলেরা হতাশা ব্যক্ত করছেন। তারা এ সময় সরকারি বরাদ্দের চাল দেয়ার দাবি তোলেন।
Leave a Reply