মোঃ আবু তৈয়ব. হাটহাজারী ( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেছেন, শিক্ষা, জ্ঞান চর্চা ও গবেষণা হলো জাতীয় উন্নতির নেপথ্য অনুপ্রেরণা। বিশ্বব্যাপি কোভিড-১৯ এর ভয়াল মহামারীতেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উপায় ও কৌশল উদ্ভাবন করে বৈরী পরিস্থিতিকে সামলে শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা কার্যক্রমকে চলমান রাখার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ প্রাণস্পন্দন অব্যাহত রেখেছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইন পদ্ধতিতে ও জুম প্লাটফর্মকে ভার্চুয়্যাল ক্যাম্পাসে পরিণত করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে অনেকখানি অন্ধকার ও হতাশামুক্ত রাখতে পেরেছেন। সম্পদে সমৃদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দারুণ অগ্রসর দেশ ও জাতির পক্ষেও যেখানে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দেয়া দায় হয়ে পড়েছিল সেদিক থেকে বাংলাদেশের মতো মধ্য আয়ের দেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুচিন্তিত পরিকল্পনায় সাফল্যের সঙ্গে বিদ্যমান মহামারীর পরিস্থিতিকে সামলে নিয়ে নতুন আশার দ্বারোন্মচন করতে সক্ষম হয়েছে।
শনিবার ( ২৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এ আর মল্লিক ভবনে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে অনুষ্ঠিত চবি সিনেট এর ৩৩ তম বার্ষিক সভায় সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার তাঁর ভাষণের শুরুতে বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, মহাকালের মহানায়ক স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি, রাজনীতির মহাকবি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি মহান একুশের ভাষা-শহীদ, শহীদ জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশলক্ষ শহীদ, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বর্বর-ঘৃণ্য হায়েনাদের হাতে নির্মমভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত দু’লক্ষ কন্যা, জায়া ও জননীর প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ২০০৪ সনের ২১ আগস্ট ঘাতকদের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নির্মমভাবে শহীদ আইভি রহমানসহ সকল শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি মহিয়ষী রমনী শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “২০২০-২০২১ বর্ষে আমরা দেশের এবং বিদেশের অনেক জ্ঞানী, গুণী, প্রজ্ঞাবান, খ্যাতিমান বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে হারিয়েছি। হারিয়েছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অনেককেই।” তাঁর বক্তব্যে তিনি প্রয়াত এ ব্যক্তিবর্গের স্মৃতির প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এ ছাড়া মহামারী কোভিড-১৯ এর করাল গ্রাসে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রাক্তন এবং বর্তমান সদস্যবৃন্দ যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বের গভীর সংকটকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের জন্য এসেছে সুবর্ণ সময়, দু’টি অসাধারণ মোহনায় উপস্থিত হয়েছি আমরা : একটি হলো আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং অপরটি হলো আমাদের গৌরবময় অর্জন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীকালের মাইলফলক তথা সুবর্ণ জয়ন্তী। দেশ ও জাতির বিচক্ষণ কর্ণধার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত নির্দেশনায় সারাদেশে এ দুটি গৌরবময় উপলক্ষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপন হয়েছে। এতে শরিক হয়েছিলাম আমরাও”।
মাননীয় উপাচার্য তাঁর ভাষণে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীকালীন ক্ষতিগ্রস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, গবেষণাগার, সড়ক, উদ্যানসহ অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্গঠনে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে; যাতে করোনাত্তর শিক্ষা কার্যক্রম কোনোভাবে বাধাগ্রস্থ না হয়ে স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে চলতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সরকার এবং ইউজিসি কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিভিন্ন সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় উপাচার্য তাঁদের এ সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মাননীয় উপাচার্য বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীর চিকিৎসা সহায়তার জন্য চবি’র বিভিন্ন এলামনাই এসোসিয়েশন কর্তৃক প্রাপ্ত অনুদানের অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে। করোনা মহামারীর শুরু থেকে চবি পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা দিতে চবি মেডিকেল সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সুবিধার্থে চবিতে করোনা টেস্টিং ল্যাব স্থাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকবৃন্দ অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে দেশের ১৪টি আরটিপিসিআর ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। করোনার মরণ ছোবল যখন চারদিকে বিস্তার লাভ করছিল ঠিক তখনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সর্বাধুনিক পিসিআর যন্ত্রটি ভাটিয়ারীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এবং ইনফেকশাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) তে স্থাপন করে করোনা পরীক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। চট্টগ্রামে করোনা বিস্তার এবং মৃত্যুর সূচক যখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নেক্সট জেনারেশন সিকুয়েন্সার ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার করোনা ভাইরাসের জেনোম সিকুয়েন্সিং করেন। এ আবিস্কার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিপুল সুনাম বয়ে নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, ২০২১ সালে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংস্থা SCIMAGO এর Computer Science Category র্যাঙ্কিং এ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম অবস্থান অর্জন করেছে। মাননীয় উপাচার্য বলেন, সামুদ্রিক গবেষণা ও সুনীল অর্থনীতিতে চবি মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের ভূমিকা অধিকতর ত্বরান্বিত করতে এবং অনুষদের ভৌত অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একনেক সভায় ৭২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা অনুমোদন দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজ এর গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পটির কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলেছে। এ ছাড়া মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারিজ এর ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য সরকার থেকে কক্সবাজারে একটি জায়গা বরাদ্দ প্রদানের প্রক্রিয়া প্রায় সমাপ্তির পথে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২টি হলের নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। ২০২০-২০২১ আির্থক সালে ইউজিসি কর্তৃক মেরামত মঞ্জুরী খাতে বরাদ্দকৃত ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা মেরামত ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া, ৫ম একাডেমিক ভবনের (জীব বিজ্ঞান অনুষদ) ৪র্থ পর্যায়ের নির্মাণ কাজ, জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের ২য় পর্যায়ের নির্মাণ কাজ, মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজ অনুষদের সম্মুখে ১টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ, শহীদ মিনারের নিকটস্থ ৫০ হাজার গ্যালন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ওভার গ্রাউন্ড পানির ট্যাংক নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের বিপরীতে প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ২০০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও ১৫ কোটি টাকার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মাননীয় উপাচার্য বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন ও রাজস্ব বাজেটের আওতায় বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি (মাস্টার্স/পিএইচডি) কোর্সে অধ্যয়ন এবং বিদেশে সেমিনার ও কনফারেন্সে যোগদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ৯ লক্ষ টাকা অনুদান মঞ্জুরী দেয়া হয়েছে। আগামী ২০২১-২০২২ আর্থিক সালের জন্য রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে এ বাবদ ৬৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২০-২০২১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ফুলব্রাইট স্কলারশীপ, কমনওয়েলথ স্কলারশীপ, ইউরোপিয়ান ইরাসমাস মুনডুস, জার্মানীর DAAD স্কলারশীপ, জাপানিজ মেক্সট স্কলারশীপ সহ মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি অর্জন করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ইউজিসি’র নির্দেশনা মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজের গুণগতমান নিশ্চিতকরণ, উত্তরোত্তর বৃদ্ধি এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রাখার লক্ষ্যে কোয়ালিটি এস্যুরেন্স প্রক্রিয়া চলমান রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে অঙ্গীভূত করে এর ব্যয় বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
মাননীয় উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ বছর মেয়াদী ডিজিটাল মাস্টার প্ল্যান এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও একাডেমিক কর্মকান্ডে উৎকর্ষতা বৃদ্ধি, ক্যাম্পাসে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সুবিধা সৃষ্টিসহ শিক্ষার পরিবেশগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ৫ বৎসরে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে মোট একহাজার ৯০ কোটি ৮ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব রেখে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইউজিসি’র মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পেশ করা হয়েছে।উক্ত প্রকল্প প্রস্তাবে ২য় বিজ্ঞান অনুষদ ভবন, সায়েন্টিফিক রিসার্চ ল্যাব, ২য় প্রশাসনিক-কাম-সিনেট ভবন, টিএসসি ভবন, ২টি আবাসিক হল, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন, বিদেশী শিক্ষার্থী ও অতিথিদের জন্য ২টি পৃথক আধুনিক ডরমেটরী ভবন, ট্রান্সপোর্ট কমপ্লেক্স, ক্যাম্পাস ব্যাপি রিং রোড, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ইত্যাদি নির্মাণ কাজ অন্তর্ভূক্ত রাখা হয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত মাস্টার প্ল্যান এর আওতায় ব্যাপক একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হবে। এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বিরূপ পরিবেশ সহিষ্ণু শস্য উদ্ভাবনের লক্ষ্যে চবিতে একটি গ্রীণ হাউজ স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ও মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ সুপারভিশনে ডিজিটাল বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়ন চলমান আছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গর্বিত অংশীদার হবার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সার্ভিসসমূহ অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রদানের নিমিত্তে আইসিটি সেল ও ইনোভেশন টিমের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল উন্নয়নে ভৌত অবকাঠামো স্থাপনের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের হাইটেক কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণ, ২য় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনে পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গায় একটি ইনোভেশন হাব স্থাপন, হাই-টেক পার্ক নির্মাণ প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।
দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সম্পদের সুরক্ষা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বর্তমান প্রশাসন অঙ্গীকারাবদ্ধ মর্মে মাননীয় উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সর্বক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সততা, স্বচ্ছতা, ন্যায়-নিষ্ঠা, ন্যায্যতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় চবি প্রশাসন বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত অপরিহার্য। তাই মাননীয় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকা- নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সিনেট সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে।
সভায় ২০২০-২০২১ অর্থবছর ৩৪৭ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকার সংশোধিত এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরের ৩৬০ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকার মূল বাজেট উপস্থাপন করেন চ.বি. রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসান। সিনেট সভায় এ বাজেট অনুমোদিত হয়।
মাননীয় উপাচার্যের ভাষণ ও বাজেটের ওপর স্বশরীরে এবং অনলাইনে প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চবি সম্মানিত সিনেট সদস্য মাননীয় সাংসদ জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মাননীয় সাংসদ জনাব ওয়াসিকা আয়েশা খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাননীয় অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) জনাব আফতাব হোসাইন প্রামাণিক (অনলাইনে যুক্ত), বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শেখ আফতাব আলী (অনলাইনে যুক্ত), সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. খোন্দকার মোকাদ্দেম হোসেন, জনাব নজরুল ইসলাম, প্রফেসর মনসুর উদ্দিন আহমদ, প্রফেসর ড. কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী, জনাব এস এম ফজলুল হক, প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ, প্রফেসর ড. মোঃ সেকান্দর চৌধুরী, ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, ড. মোহাম্মদ মঞ্জুর-উল-আমিন চৌধুরী, প্রফেসর ড. এম এ গফুর, জনাব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন শাহ্ আলম নিপু, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান, প্রফেসর এ বি এম আবু নোমান এবং প্রফেসর আবু মুহাম্মদ আতিকুর রহমান। এছাড়াও সিনেট সভায় সম্মানিত সিনেটরবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply