নিজস্ব প্রতিবেদক :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টিকা দেওয়ার ১৩ ঘন্টা পর ২ বছরের এক শিশুর মৃত্যু’র অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পৌর এলাকার নছরতপুর গ্রামের মো. জুয়েল আহমদের মেয়ে সানজিদা জান্নাত তুহা (২)। শিশুটিকে এক নজর দেখার জন্য এলাকায় মানুষের ঢল নামে এবং এক হৃদয়বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তবে শিশুটির বাবা বলেন, ভুল চিকিৎসায় আমার সুস্থ মেয়েটি মারা গেছে।
শিশুটির জানাযা নানা বাড়ি পতনঊষার ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার সময় কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটির পরিবার তাকে নিয়ে আসে টিকা দেওয়ার জন্য। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে (পেন্টা+পিসিডি+আইপিডি+ওপিড) এই চারটি টিকা তার দুই হাতে ও দুই পায়ে প্রয়োগ করেন। টিকা প্রয়োগের পর রাত ১২টায় কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৌলভীবাজার পাঠানোর কথা বলেন, সেখান থেকে শিশুটির পরিবার মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়।
শিশুর বাবা মো. জুয়েল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আমার ২ বছর ৩ মাসের মেয়ে সানজিদা জান্নাত তুহাকে সুস্থ অবস্থায় টিকা দেওয়ার জন্য কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়ে আসি। সকাল ১১টার সময় সেখানে ডাক্তার আমার মেয়েকে ৪টা টিকা দেন। ২টা দুইহাতে ২টা দুই পায়ে। পরে মেয়েকে নিয়ে আসি বাড়িতে। হঠাৎ রাত সারে ১২টার দিকে ঘুমানো অবস্থায় শিশুটি কান্না করে উঠে, পরে আমি দেখি আমার মেয়েটার নাক দিয়ে ফেনা ও রক্ত বের হচ্ছে। তখন দ্রুত মেয়েকে নিয়ে রাত সাড়ে ১২টায় কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৌলভীবাজার যাওয়ার কথা বলেন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায় বলে জানান মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ডাক্তার।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, আমার মেয়েটা সুস্থ ছিল, স্বাভাবিক ভাবে হাসপাতালে নিয়ে এসে টিকা দিলাম এভাবে তার মৃত্যু হবে কল্পনা করিনি। এখন আমি কার কাছে যাবো, কার কাছে গিয়ে বিচার দিবো, কিছুই বুঝতে পারছি না। এই হাসপাতালে আরো কত শিশু ভুল চিকিৎসায় মারা যায়, কোন বিচার হয় না। আমার মেয়ের যে বিচার হবে ভাবতে পারি না। শুধু আল্লাহকে বলবো তিনিই আমার বিচার করবেন।
শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মাহবুবুল আলম ভূইয়া বলেন, ‘আমাদের এখানে প্রায় সময়ই বাচ্চাদের টিকা দেওয়া হয়। তবে টিকায় কোন সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে সেটা তাৎক্ষনিক হয়ে থাকে। তবে জ্বর বা নরমালি সমস্যা হতেই পারে, কিন্তু এই বাচ্চাটার ক্ষেত্রে অন্যটা হয়ে গেল। এখন বুঝতে হবে এই বাচ্চাটার আগে কোন সমস্যা ছিলো কি না আমরা সেটা জেলাতেও রিপোর্ট করেছি সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর আমরা সারভিলেন, মেডিক্যাল অফিসার এবং ডব্লিউএইচ এর প্রতিনিধি আছে যারা টিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করেন তারও এ বিষয়টা নিয়ে তদন্ত করবে।
টিকার কোন মেয়াদ আছে কি না সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সব বিষয়ে খবর নিবো। সেখানেও কোন সমস্যা আছে কি না। এখন রিপোর্ট আসার পর আপনাদের বিস্তারিত জানাতে পারবো।
Leave a Reply