মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর সারা দেশের ন্যায় গত রবিবার কুমিল্লায় পাঁচ হাজারের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। এতে মুখরিত হয়ে উঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ক্রমান্বয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়লেও কিন্ডারগার্টেনে তেমন বাড়ছে না শিক্ষার্থীর সংখ্যা। রয়েছে শিক্ষক সংকটও।
জানা যায়, কুমিল্লা জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে দুই হাজার ১০৬টি ও কিন্ডার গার্ডেন রয়েছে দুই হাজার ১৭৬টি।
সরকারি সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বাড়লেও বাড়েনি কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষার্থী, অনেক প্রতিষ্ঠানে আসছেন না শিক্ষকরাও । অনেক কিন্ডার গার্ডেন রয়েছে বন্ধ। এ শিক্ষা বর্ষের শেষ হতে বাকি আর দুমাস থেকে তিনমাস । এ অল্প কয়েকদিনের জন্য শিক্ষাথীদের স্কুলে পাঠিয়ে সারা বছরের বেতন ও ফ্রি দিতে চাচ্ছেন না অনেক অভিভাবক। শিক্ষার্থী সংকট ও অর্থনৈতিক সমস্যায় কিন্ডার গার্ডেনগুলোতে চলছে দুরবস্থা।
নগরীর ঝাউতলার মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক অভিভাবক জানান, অক্টোম্বর আর নভেম্বর দুমাস ক্লাস চলবে। পরে উপরের ক্লাসে উঠবে। এ দুমাসের জন্য সারা বছরের স্কুলের বেতন ফি দিতে হবে। করোনার কারনে অর্থ নৈতিক অবস্থাও ভাল না। তাই বাচ্চাকে স্কুলে দিচ্ছিনা। এ দুমাস বাসায় পড়িয়ে নতুন বছরে স্কুলে ভর্তি করাব।
মোশাররফ হোসেন নামে এক অভিভাবক জানান তার দু ছেলে স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্ডেনে পড়ে। বড় ছেলে প্রাথমিক সমাপনী দিবে তাই তাকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন আর ছোট ছেলে প্রথম শ্রেনীতে পড়ায় তাকে স্কুলে না দিয়ে বাসায় পড়াচ্ছেন। নতুন শিক্ষা বর্ষ থেকে স্কুলে পাঠাবেন।
কুমিল্লা নগরীর কিস্ডার গার্ডেনের কয়েকজন শিক্ষক জানান, এই মহামারির সময় প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ আমাদের কোন খোজ খবর নেননি। বেতন বন্ধ ছিলো আমরা জীবিকার তাগিতে বিভিন্ন পেশায় চলে গেছি। এখন আবার স্কুলে যোগ দিলেও তেমন বেতন দিবেনা তাই যোগ দিচ্ছিনা। নতুন বছর থেকে চিন্তা করব পরবর্ত্তী পরিস্থিতির বিবেচনা করে।
মুরাদনগর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমুল করিম মুবিন বলেন, আমরা করোনাকালিন সময়েও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন এসাইনমেন্ট দিয়ে, বাড়ির কাজ দিয়ে ও অনলাইনে ক্লাস নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযুক্ত রেখেছি। ফলে স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীরা প্রায় সবাই স্কুলে আসছে। তবে কিছু শিক্ষার্থী হয়তো নতুন বছর থেকে আসবে। আমরাও তাদের ফিরিয়ে আনতে যোগাযোগ করছি।
কুমিল্লা জেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যক্ষ হাসান ইমাম মজুমদার ফটিক বলেন, করোনা মহামারির কারনে অনেক কিন্ডার গার্ডেন বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক শিক্ষক অন্য পেশায় চলে গেছে। অনেকে অভিভাবক এই বছরের বাকি সময়ের জন্য তাদের সন্তানকে আর স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী নন। ফলে আগামী বছর ছাড়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোয় শিক্ষার্থী পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ জন্য অনেক স্কুল এখনো খুলছে না। স্কুল খোলার পর আমাদের এসোসিয়েশন বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার জরিপ করছে। জরিপের পর বুঝা যাবে কেমন শিক্ষার্থী আছে । পরবর্ত্তীতে এ সংসকট উত্তোরনের উপায় বের করার বিষয় নিয়ে সভা করা হবে। আপতত সবাই নিজ নিজ উদ্যোগে সংকট থেকে উত্তরনের চেষ্টা করছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার আশাব্যঞ্জক হলেও কিন্ডারগার্টেনগুলোতে উপস্থিতি কিছুটা কম। তাছাড়া অনেক কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষার্থী আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলে আসে। আমাদের অধিদপ্তর থেকে তাদের শুধু বইগুলো বিতরন করি। শিক্ষার্থীর সকল দায়দায়িত্ব তাদের।
Leave a Reply