আতিকুর রহমান,তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ-
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা ঝুমন দাশের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট।
ঝুমন দাসের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে। সুনামগঞ্জের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিন মঞ্জুর না হওয়ায় ঝুমনের আইনজীবীরা জজ আদালতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও জামিন আবেদন নাকচ হয়ে গেলে গত ২২ অগস্ট হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন ঝুমন দাসের মা নিভা রানী দাস।
ঝুমন দাসের জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, নাহিদ সুলতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।গত মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঝুমন দাশের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজ ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন
হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শর্ত সাপেক্ষে তাকে এক বছরের জামিন দেন একই বেঞ্চ।
হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, জামিনে থাকা কালীন সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না, এমনকি আদালতের অনুমতি ছাড়া সুনামগঞ্জের বাইরেও যেতে পারবেন না।
আইনজীবী জেডআই খান পান্না বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাইকোর্টের জামিনের আদেশের পর সুনামগঞ্জ কারাগার থেকে ঝুমন দাশের মুক্তি পেতে কোনো আইনি বাধা নেই।
উল্লেখ্য গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে হেফাজতে ইসলাম শানে রিসালাত নামে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুমন দাশ নামে এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
এক উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তা হেফাজতের দৃষ্টিতে আপত্তিকর মনে হয়। তারা পরদিন এর প্রতিবাদে সমাবেশও করে। ওই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ফেসবুক পোস্টের জন্য ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় গত ছয় মাস ধরে কারাগারে বন্দি ছিলো ঝুমন দাস।
Leave a Reply