সোহানুল হক পারভেজ তানোর(রাজশাহী) :
রাজশাহীর তানোর উপজেলা ভূমি অফিসে চলছে বেপরোয়া ঘুষবাণিজ্য। এখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ স্বাভাবিক নিয়মে হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের দাপটে অসহায় হয়ে পড়ছেন কাজে আসা সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীরা জানান, বৈধ জমির বৈধ কাগজ নিয়ে গিয়েও প্রকৃত মালিকদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয় তানোর উপজেলা ভূমি অফিসসহ ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে। খারিজ (নামজারি), ভূমি উন্নয়ন কর, আরএস, খাজনা দাখিল, সিএস, ডিসিআর ও ইজারাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই অসাধু সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করে কাজ করতে হয়। জমির মালিকরা সরকারী নিয়মের বাইরে গিয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকার বিনিময়ে জমি খারিজ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অফিসের দালাল ও কর্মচারী থেকে শুরু করে সবাই শুধু টাকা চায়। টাকা দাও, কাজ হবে নাহলে ঘুরতে ঘুরতে জীবন পার হবে কিন্তু জমির কাজ আর হবে না! বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এই ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কর্মকর্তা, কর্মচারী, দালাল সবাই ঘুষ খাচ্ছেন সবার চোখের সামনেই।
আমশো গ্রামের কৃষক রাকিবুল সরকার পাপুল এ প্রতিবেদককের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘গত দুই মাস থেকে আমার এক টুকরো জমির খারিজের জন্য এই ভূমি অফিসের বারান্দায় ঘুরছি। তাদের চাহিদামত প্রত্যাশিত ঘুষ দিতে না পারায় আমার জমির খারিজ হচ্ছে না। আমার টাকা থাকলে এদের এই গঞ্জনা সহ্য করার চেয়ে টাকা দিয়েই করিয়ে নিতাম। তিনি আরো বলেন তানোর গোল্লাপাড়া বাজারের ঘর নিয়ে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে গোল্লাপাড়া বাজারের বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়াই আমার কাছে প্রতিদিন অভিযোগ আসে, আমি তানোর উপজেলা নির্বাহি অফিসার পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ স্যারকে অভিযোগ দিয়েছি,তিনি বলেছেন তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আতাউর রহমান নামের একজন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এখানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ করানো সম্ভব না। কাজ করাতে হলে তাদের কথামত টাকা দিতেই হবে, এদের কাছে জিম্মি সবাই।’
শুধু এরাই নন, প্রতিদিন কৃষক থেকে শুরু করে অনেক শিক্ষিত মানুষও নাকানিচুবানি খাচ্ছেন এখানে। অভিযোগ করলে উল্টো তাদের নাজেহাল হতে হয় ভূমি অফিসের কর্তা ব্যক্তিদের হাতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূমি অফিসের এক কর্মচারী প্রতিবেদককে বলেন, ‘এখানকার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ নিয়ে কাজ করেন। অনেকেই নিজের চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী নিজ কাজের সুবিধার্থে লোক রেখে নিয়েছেন। যারা তার কথামত টাকার বিষয়টা হ্যান্ডেল করেন। তবে সদ্য বদলী হওয়া এসি ল্যান্ড আব্দুল্যাহ আল মামুন স্যারের সময় ভূমি অফিস অনেকটাই দুর্নীতিমুক্ত ছিলো।’
তিনি আরও বলেন, পত্রিকায় লেখলে বা অভিযোগ করে কোনও লাভ নেই। এ অফিসের কর্মকর্তাদের ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সব জায়গা ম্যানেজ করে রাখেন ফলে আর যাই হোক এই অফিসে কাজ করা কারো কোনো সমস্যাই হয় না শুধু শুধু আপনার সময় নষ্ট হবে!’
বিষয়টি নিয়ে তানোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বীকৃতি প্রামানিক সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ট্রেনিংয়ে আছি, পরে কথা হবে বলে ফোন কেটে দেন।
এবিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্হা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এনিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হামিদুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভূমি অফিসে দালাল দিয়ে কাজ করার বা ঘুষবাণিজ্যের কোনও সুযোগ নেই। যদি তানোরের কোনও ভূমি অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে দালালদের হাত দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply