বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি
যশোরে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৬৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে দেড় মাসেই শনাক্ত হয়েছে ৩৭ জন। তাদের ১১ জনই হলেন সদর উপজেলার বাসিন্দা। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ। তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে গত ৯ মাসে জেলায় ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৬৫ রোগীর মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১২ জন, শার্শা উপজেলায় ২ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৫ জন, চৌগাছা উপজেলায় ৯ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ২ জন, অভয়নগর উপজেলায় ২৬ জন ও মণিরামপুর উপজেলায় ৯ জন রয়েছেন। কেশবপুর উপজেলায় এখনো কারো ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি। সূত্রটি আরও জানায়, গত ৩ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিলো ২৮ জন। আর ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬৫ জনে। অর্থাৎ ৮ মাসে যে পরিমাণে রোগী ছিলো তার চেয়েও বেশি শনাক্ত হয়েছে পরের দেড় মাসে। ওই সময় সদর উপজেলায় রোগী ছিলো মাত্র ১ জন। আর এখন ১২ জন।
সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, ২০১৯ সালে যশোরে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ দেখা দেয়। জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪৫১ জন। নারী পুরুষের সাথে আক্রান্তের তালিকায় শিশু ছিলো। মৃত্যু হয়েছিলো ৬ জনের। তারা হলেন যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকার সোনাপট্টি এলাকার আনন্দ ঘোষের স্ত্রী সাগরিকা ঘোষ (২৮), বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙগুড়া গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান আলী বিশ্বাস (৭০), মণিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামের কাদের মোল্যার স্ত্রী জাহিদা বেগম (৩৫), কাশিমনগর গ্রামের ইমান আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫), রাজবাড়িয়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর স্ত্রী রেবেকা বেগম (৫৫) ও যশোর ইবনেসিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নড়াইলের রোকসানা পারভীন রানী (৫২)। তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে এক লাপে ডেঙ্গুর প্রকোপ এক লাফে কমে যায়। যশোর জেলায় মাত্র ৫৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মৃতের সংখ্যা শূন্য ছিলো। সেই তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা একটু বেড়েছে।
ডা. রেহেনেওয়াজ আরও জানান, এবারও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অভয়নগর উপজেলা। এখানে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ইতিমধ্যে সেখানে ২৬ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। আগের বছরও অভয়নগর রোগীর সংখ্যা বেশি ছিলো।
যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার পক্ষে ২ আগস্ট থেকে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য অভিযান চলবে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হয়। সেজন্য বাড়ির আশপাশে ও ডোবা নালা, ময়লা-আবর্জনার স্তুপ নোংড়া ড্রেন নিয়মিত পরিস্কার করা ছাড়াও ফুলের টব, টায়ার ও ডাবে পানি জমে না থাকার ব্যাপারেও মানুষের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। এছাড়া যশোর জেলার সকল পৌর মেয়র ও জন প্রতিনিধিরা সোচ্চার হলে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সিভিল সার্জন আরও জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু সচেতনতার বিষয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ কর্মি ও কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের জণগনের সচেতন করার কাজে মাঠে নামানো হয়েছে। তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সক্রিয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
Leave a Reply