বিল্লাল হোসেন,যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে গীষ্মকালীন সবজিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। নানা রকমের সবজি বাজারজাতে চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দামও বেশি পাওয়ায় চাষীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশ বিদেশে।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, দেশের সবজির একটি বড় অংশ উৎপাদিত হয় যশোরে। এখানে বারো মাস নানা রকম সবজির আবাদ হয়ে থাকে। এবারও ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে গীষ্মকালীন সবজির করা হয়েছে।
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয় যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপ্রু ইউনিয়নে। নতুন করে বাঘারপাড়া ও মণিরামপুরের কিছু এলাকা যোগ হয়েছে। এবার যশোর সদর উপজেলায় গীষ্মকালীন আগাম সবজির চাষ হয়েছে ২৮শ’ হেক্টর। এরমধ্যে সবজি খ্যাত হৈবতপুর ইউনিয়নে ১৩শ’ ২৮ হেক্টর, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে ৪শ’ ২৫ হেক্টর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে ২শ’ ৮৩ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। এই এলাকার সবজির সুনামের পাশাপাশি ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চুড়ামনকাঠি, আব্দুলপুর ছাতিয়ানতলা, শানতলা, নুরপুর, বাগডাঙ্গা, দোগাছিয়া, সাজিয়ালী, শ্যামনগর ও কমলাপুরস হৈবতপুর, তীরেরহাট, মানিকদিহি, মথুরাপুর, শাহাবাজপুর, মুরাদগড়, কাশিমপুর, বিজয়নগর, দৌলতদিহি, বালিয়াঘাট, ললিতাদাহ, বালিয়াডাঙ্গা, বেনেয়ালী, ডহেরপাড়া, লাউখালী, নাটুয়াপাড়াসহ বিভিন্ন মাঠ গীষ্মকালীন সবজিতে ভরা। যেদিকে নজর যায় সেদিকেই দেখা মিলছে নানা প্রকারের সবজি ক্ষেতের। এর মধ্যে সিম মুলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন,পটল, উল্লেখযোগ্য। সবজি চাষী শফিকুল ইসলাম, মন্টু মিয়া, মনিরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, ফয়জুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, আবুল কাশেম, রন্টু মিয়া, আবুল কালাম, হাসানুর রহমান, সেলিম রেজা, রিপন হোসেন, জামাল উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, আশাদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, বজলু মিয়াসহ অনেকেই জানান, এবারের মৌসুমে সব ধরণের সবজিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্য বেশি থাকায় তারা প্রতিদিনই সবজি বাজারজাত করছেন। গতবার বৃষ্টিপাতের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সময়োপযোগী আবহাওয়া ও পরিমান মতো বৃষ্টির কারণে ফলন হয়েছে। এখন বাজার দর ভালো হওয়ায় গীষ্মকালীন সবজি চাষে এবার লাভবান হবেন বলে আশাবাদী। চাষিরা আরো জানান, তবে সুযোগ বুঝে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবজির দাম কমিয়ে দেয়। তখন তারা কম দামে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হন। বারীনগর ও চুড়ামনকাটি এলাকায় যদি একটি কোল্ড-স্টোরেজ থাকতো তাহলে দাম কমের সময় সবজি বিক্রি না করে সংরক্ষণ করতেন। পরে বাজার বুঝে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ পেতেন চাষিরা। যশোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, যশোর সবজির জেলা হিসেবে সারা দেশে পরিচিত। এখানকার সবজির সুনাম অনেক । স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশ বিদেশের বাজারে। দুটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সবজি বিদেশ যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে গীষ্মকালীন সবজির ভরা মৌসুম চলছে। চাষ হয়েছে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে। বাম্পার ফলন পেয়েছে। দামও পাচ্ছে অনেক। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ১ মাস পরেই আগাম শীত কালীন সবজির চাষ শুরু হবে। ৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরপর ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির আবাদ করবে চাষিরা।
Leave a Reply