মোঃ সাইফ উদ্দিন রনী, কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান:
২০২১ এর আগস্ট মাসে অনলাইন রিটার্ন জমায় শীর্ষস্থান দখল করেন এ প্রতিষ্ঠান। অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে সারাদেশে ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটের মধ্যে প্রতিযোগিতায় করে এ নিয়ে ১২ বার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলো কুমিল্লা।
কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট অফিস জানায়, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের অঙ্গীকার পূরণে ১২ বার সেরা হয়েছেন। সমন্বিত রুদ্ধশ্বাস দৌড়ের সফলতা এটি । দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যশোর ভ্যাট কমিশনারেট। করোনা মহামারীর ভয়াল থাবার মধ্যেও অর্থবছরের শেষ মাসে ৮০% প্রবৃদ্ধি নিয়ে ইশ্বনীয় স্থানে কুমিল্লা ভ্যাট। বারো বার অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমায় সাফল্যকে ‘চমক’ হিসেবে দেখছে এনবিআর।
অর্থবছরের শুরুতে ‘মুজিববর্ষে ব্যতিক্রম সেবা’র প্রাধিকার পরিকল্পনা প্রণয়ন করে কুমিল্লা কাস্টমস টিম। ধারাবাহিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশে করোনাকালে সরকারী অফিসগুলোর অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে ওঠে কমিশনারেট।
অনলাইন রিটার্ন দাখিল সফলতা অনার জন্য মাসের ১ম দিন হতে কমিশনার কর্মকর্তাদের সাথে সভা করে কাজ ভাগ করে দেয়া দেন। কুমিল্লা ভ্যাট টিমকে চ্যাম্পিয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে অনেক কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় গত ১০ ও ১১ তারিখ শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তহিক ছুটি বাতিল করে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের কাজ অগ্রাধিকার দেন।
জুলাই মাসে ড্রাপসে ৬২টি রিটার্ন জমা থাকায় রিটার্ন দাখিলের হার ছিল ৯৫.৩৩%। জুলাই মাসে ড্রাপসের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করায় আগস্ট মাসের রিটার্ন দাখিলের হার দাঁড়ায় ৯৫.৮৩%। সাফল্যের পিছনে রয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়নের অঙ্গীকারে সক্রিয় থাকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কুমিল্লার (সিইভিসি) টিম। আর এ টিমকে নেতৃত্ব দিয়ে সফলতা অর্জন করছেন কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী।
১৫০ সদস্যের টিমকে ৫৭টি জুম সভায় প্রশিক্ষিত ও নিবিড় মনিটরিং করা হয়েছে। কমিশনারেটের অধীন ১৬টি সার্কেল ও ছয়টি বিভাগের সবাই আন্তরিক ছিল। কর্মকর্তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সময় সময়ে পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পন্দন, কর্মস্পৃহা ও সুস্থ প্রতিযোগিতা বিরাজ করছে এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সহকারী কমিশনার (সদর দপ্তর, কুমিল্লা) মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন রিপন বলেন, সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে নান্দনিক দৃশ্যমান প্রতিযোগিতা বিরাজ করছে। একটা ভালো টিমওয়ার্ক এর মাধ্যমে এ অর্জন। কর্মকর্তারা পরিশ্রম করেছেন। মাঠ পর্যায়ে যে সকল পরিশ্রমী কর্মকর্তা এতে ভূমিকা রেখেছেন তাঁদেরকে পুরস্কৃত করেছি ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। কুমিল্লা কমিশনারেটের নেয়া ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কুমিল্লাকে সেরার আসন ধরে রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
কুমিল্লা কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ আবদুল হাকিম বলেন, রিটার্ন দাখিলে প্রথম স্থান অর্জনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। নানা প্রতিকুলতা ও নানা মাত্রিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে কুমিল্লা কমিশনারেটের জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে।
কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার অটোমেশন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এনবিআরে অগ্রণী ভূমিকার সফল ধারা অব্যাহত রয়েছে। কুমিল্লা টিম কর্তব্য পালনে পিছিয়ে থাকেনি। দলের এই প্রচেষ্টা ও প্রতিযোগিতা অভূতপূর্ব সাফল্যের মূল নিয়ামক। তিনি আরো বলেন, সক্ষম কর্মকর্তাদের বাছাই করে জটিলতর কাজে নিয়োগ, মনিটরিং উদ্বুদ্ধকরণ এক্ষেত্রে গতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
Leave a Reply