এম.শাহীন আল আমীন, জামালপুর ॥
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় হাইব্রিড নেতা কর্মী নিয়ে চরম হট্টগোল হয়েছে। বর্ধিত সভায় জেলা ও উপজেলা নেতাদের উপস্থিতি বিদ্যমান থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। বার বার ক্ষমা চাওয়ার পরেও বর্ধিত সভা স্বাভাবিকভাবে শেষ করতে পারেনি। সভা সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয়েছেন উপস্থিত জেলা ও উপজেলা পর্যাযের নেতারা।
জানা যায়, ২০ সেপ্টেমবর বিকাল সাড়ে চারটার সময় জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নে বর্ধিতসভা শুরু হয়। সাধুরপাড়া কেবি মডেল হাই স্কুলে রাত ৯টা পর্যন্ত বর্ধিত সভার কার্যক্রম চলমান থাকে। শুরুতেই বর্ধিত সভার প্রধান অতিথি জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আ.ব.ম জাফর ইকবাল জাফুর নির্দেনা মূলক বক্তব্য দেন। জাফু বলেন, কোন বর্ণনামূলক বক্তব্য দেওয়া যাবেনা। ওর্য়াড কমিটির সভাপতি সম্পাদক শুধু ওয়ার্ডের বর্ধিতসভা ও সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করবেন । উপস্থিত নেতা-কর্মীরা বক্তব্যে দলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরার সুযোগ চান। প্রধান অতিথি তার অবস্থানে অনড় থাকলে উপস্থিত নেতা কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওযামীলীগের সহ সভাপতি ইসমাইল বাবুর তালুকদার, আবু জাফর ও সাদারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজযের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শুরু হয় বর্ধিত সভা।
বর্ধিত সভায় বক্তরা আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী বা হাইব্রিড নেতা কর্মীদের নিয়ে কঠিন সমালোচনা করেন এবং আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী বা হাইব্রিড নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওযার দাবি করেন। উপস্থিত শত শত ত্যাগি নেতা কর্মীরা করতালি ও শ্লোগান দিয়ে দাবির প্রতি সমর্থন জানান। এই পরিস্থিতিতে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওযামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সভার সঞ্চালক ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু উচ্চ সূরে মাইকে ঘোষনা দেন “হাইব্রিড যদি পছন্দ না হয় আপনারা বর্ধিত সভা থেকে চলে যান”। মাহমুদুল আলম বাবুর এই ঘোষনার পরেই সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় হট্টগোল শুরু হয়। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতাকমীরা উত্তেজিত হলে সভা পন্ডের উপক্রম হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে উপস্থিত জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওর্য়াড আওয়ামীলীগের নেতাকমীদের কাছে প্রকাশ্যে মাইকযুগে দুই হাত তুলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওযামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সভার সঞ্চালক ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু। তার পরেও জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি শতভাগ নিয়ন্ত্রনে না আসায় সভার কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করে রাত সাড়ে ৮টার সময় সিনিয়ন নেতারা সভাস্থল ত্যাগ করেন।
বর্ধিত সভায় ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিকসে সম্পাদক আ.ব.ম. জাফর ইকবাল জাফু, বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বিজয়,
সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন, নজরুল ইসলাম সাত্তার, আবু জাফর, যুগ্ন সাধারণ সসম্পাদক জালাল উদ্দীন , সেলিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াকত হোসেন লাজু , আব্দুল হিল আল আমিন , আবদুল্লাহ আল মোকারেছ খোকন , এ.কে এম হান্নান কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এ.কে এম হান্নান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুর ইসলাম তালুকদার জুমান, মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর ইসলাম জেহাদ,
উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগম প্রমুখ।
Leave a Reply