হিজলা প্রতিনিধি::
বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে চলছে ব্যাপক হয়রানি। এ ইউপিতে সচিব ও উদ্যোক্তা মিলে সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে আদায় করছেন চাহিদামতো অর্থ। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে এ কার্যালয়ে জন্মনিবন্ধনসহ সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সার্ভার অচলের অজুহাতে করা হয় হয়রানি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জন্মনিবন্ধন করতে ফির ওপর অতিরিক্ত উৎকোচ না দিলে হয় না জন্মনিবন্ধন ও নাম সংশোধন। জন্মনিবন্ধন করতে গেলে উদ্যোক্তার সুপরিচিত এক কথা সার্ভার বন্ধ আছে এখন হবে না। তাছাড়া জন্ম-মৃত্যু আনতে লাগে অতিরিক্ত টাকা।
স্থানীয় সরকারের সর্বশেষ জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুসারে জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনা ফি’তে, জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা, জন্ম বা মৃত্যুর ৫ বছরের পরে ৫০ টাকা, জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য ১০০ টাকা, জন্ম তারিখ ব্যতীত নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি ফি ৫০ টাকা, বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদের নকল সরবরাহ ৫০ টাকা করে ফি বাবদ নিতে পারবে। কিন্তু এই ইউপিতে কোনোটিই মানা হচ্ছে না।
এখানে প্রতিটি সেবা সংক্রান্ত কাজের জন্য নির্ধারিত ফি থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা পরিশোধ করতে হয়। সচিব, উদ্যোক্তা সবাই এক সূত্রে গাঁথা। যার ফলে এ ইউনিয়নের সর্বসাধারণের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। জন্মনিবন্ধন নতুন বা সংশোধন যেটাই হোকনা কেন গুনতে হয় সর্বনিন্ম ২০০ টাকা।
এছাড়া দিনের পর দিন অতিরিক্ত টাকা দিয়েও অনেকে পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। জন্ম ও মৃত্যু সনদের ফি নিয়ে ভুক্তভোগীদের কোনো ধারণা না থাকায় তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত উৎকোচ।
সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কেউ নিবন্ধনের জন্য টাকা দিচ্ছেন আবার কেউ নিবন্ধন সংগ্রহ করছেন। আবার কেউ চাপা ক্ষোভ নিয়ে খালি হাতে বের হয়ে আসছেন। যারা খালি হাতে বের হয়ে আসছেন তারা টাকা দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
উদ্যোক্তা রাবেয়া বেগম বলেন, আমাদের কোন সরকারি বেতন নেই। সরকারি ফিসের বাইরে যে টাকা নেওয়া হয় তা দিয়ে অফিসের যাবতীয় খরচ চালানো হয়।
ইউপি সচিব জন্মনিবন্ধনের বিষয়ে বলেন, উদ্যোক্তাদের কোনো বেতন নাই তাই তারা সরকারি ফিসের বাহিরে কিছু টাকা নেয়। কালি, বিদ্যুত খরচ এবং জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য ইউওনো স্যারের কাছ থেকে এপরোভ করে নিয়ে আসা সহ বিভিন্ন খরচ হয়, তাই কিছু টাকা অতিরিক্ত নেয়া হয়।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বকুল চন্দ্র কবিরাজ জানান, যেহেতু জন্ম নিবন্ধনে নির্ধারিত ফি বাহিরে অতিরিক্ত ফি আদায় হচ্ছে বিষয়টি দেখতে আছি।
Leave a Reply