মোঃ আতিকুর রহমান, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সহ-সম্পাদক ও স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কলমাকান্দা.কম-এর সম্পাদক এসএম শামীমকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কলমাকান্দা উপজেলা যুবলীগ নেতা সুজন বিশ্বাস।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এসএম শামীমের মোবাইলে কল করেন সুজন বিশ্বাস। এসময় তাদের মধ্যে কথা হয় মাত্র ৩০ সেকেন্ড। আর এসময় সুজন বিশ্বাস অকথ্য ভাষায় কথাবার্তা বলাসহ এসএম শামীমকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
উল্লেখ্য, নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ‘ওমরগাঁও, হাসানোয়াগাঁও এবং বিশাউতি বালু মহাল’ ইজারা নিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে কোটি টাকার পাথর। উপজেলার সীমান্তবর্তী মহাদেও নদীতে প্রায় ১০০ ড্রেজার বসিয়ে দিনরাত চলছে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের কাজ। শুধু তাই নয়, এসব বালু ও পাথর বহনকারী শত শত লরি আর হ্যান্ডটলির অবাধ চলাচলে ধ্বংস এখন সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা কলমাকান্দা- সুনামগঞ্জ সংযোগ সড়ক।
সম্প্রতি এ বিষয়ে অনুসন্ধানী ধারাবাহিক ও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কলমাকান্দা.কম। আর এসকল প্রতিবেদন প্রকাশের শুরু থেকেই কলমাকান্দা উপজেলা যুবলীগ সম্পাদক পলাশ বিশ্বাস, যুবলীগ নেতা সুজন বিশ্বাস এসএম শামীমকে কল করে স্থানীয় এমপি মানু মজুমদারের নাম ভাঙিয়ে হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।
এ বিষয়ে এসএম শামীম জানান, কলমাকান্দা.কম-এ বালু মহাল বিষয়ক সংবাদ প্রকাশের পর থেকে দলের ও স্থানীয় এমপির নাম ভাঙিয়ে পলাশ বিশ্বাস, সুজন বিশ্বাসসহ আরো অনেকে মোবাইলে কল দিয়ে আমাকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কলমাকান্দায় বালু ও পাথর খেকোরা ব্যাপরোয়া হয়ে গেছে। এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট করছে, মানুষের চলাচলের রাস্তা ধ্বংস করাসহ সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে এই বালু ও পাথর খেকো চক্রটি।
এসএম শামীম আরো বলেন, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোবাইলে বহুবার হুমকি আসায় বর্তমানে আমিসহ আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। বালু ও পাথর খেকোরা যে কোনো সময় আমি বা আমার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করতে পারে। আর তাই হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আশা করি সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সর্বাত্বক সহযোগিতা পাবো।
Leave a Reply